বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান – ২০২৬

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান - ২০২৬

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান – ২০২৬।
Bangladesh Water Development Board Deputy Assistant Engineer Recruitment Exam Questions and Solutions – 2026

গণিত

১. একটি রম্বসের ভূমি ১২ সেমি এবং উচ্চতা ৫ সেমি হলে, এর ক্ষেত্রফল কত?
ক) ৩০ বর্গসেমি খ) ৬০ বর্গসেমি গ) ২৫ বর্গসেমি ঘ) ১২০ বর্গসেমি

সঠিক উত্তর: খ) ৬০ বর্গসেমি

ব্যাখ্যা:
জ্যামিতির এই প্রশ্নটি খুবই বেসিক কিন্তু অনেকেই পরীক্ষার হলে সূত্র গুলিয়ে ফেলেন। রম্বস মূলত এক ধরনের সামন্তরিক যার সবকটি বাহু সমান। আমরা জানি, সামন্তরিকের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র হলো ভূমি গুণন উচ্চতা। যেহেতু রম্বসও একটি সামন্তরিক, তাই এর ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের জন্যও একই সূত্র প্রযোজ্য হবে। এখানে প্রশ্নে দেওয়া আছে রম্বসের ভূমি ১২ সেমি এবং উচ্চতা ৫ সেমি। সুতরাং, ক্ষেত্রফল হবে (১২ × ৫) = ৬০ বর্গসেমি।

অনেকে ভুল করে রম্বসের কর্ণের গুণফল দিয়ে ক্ষেত্রফল বের করার চেষ্টা করেন, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। যদি কর্ণের দৈর্ঘ্য দেওয়া থাকত, তবে সূত্র হতো (১/২ × কর্ণদ্বয়ের গুণফল)। কিন্তু এখানে ভূমি ও উচ্চতা স্পষ্ট করে বলা আছে।  এই ছোটখাটো বিষয়গুলো মাথায় রাখলে সহজেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রশ্নের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সূত্র নির্বাচন করতে হবে।

২. X = {2, 4, 6} এবং Y = {4, 6, 8} হলে, X U Y (ইউনিয়ন) কত?
ক) {2, 4, 6} খ) {2, 4, 6, 8} গ) {4, 6} ঘ) {8}

সঠিক উত্তর: খ) {2, 4, 6, 8}

ব্যাখ্যা:
সেট ফাংশনের এই অংকটি নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বই থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘U’ চিহ্নটি দ্বারা ইউনিয়ন বা সংযোগ সেট বোঝানো হয়েছে। সংযোগ সেটের নিয়ম হলো, দুটি বা ততোধিক সেটের সকল উপাদানকে নিয়ে যে নতুন সেট গঠিত হয়, তাকে সংযোগ সেট বলে। তবে শর্ত হলো, কোনো উপাদান একাধিকবার থাকলে সেটি নতুন সেটে একবারই বসবে।

এখানে X সেটের উপাদানগুলো হলো ২, ৪, ৬ এবং Y সেটের উপাদানগুলো হলো ৪, ৬, ৮। যদি আমরা দুটি সেটের সব উপাদান একত্র করি, তাহলে পাই ২, ৪, ৪, ৬, ৬, ৮। কিন্তু সেটের নিয়ম অনুযায়ী একই সংখ্যা বারবার লেখা যায় না। তাই কমন এবং আনকমন সব উপাদান একবার করে নিলে আমরা পাই {২, ৪, ৬, ৮}।  অপশন ‘গ’ তে {৪, ৬} দেওয়া আছে যা হলো ছেদ সেট বা Intersection, তাই প্রশ্নে কী চেয়েছে—ইউনিয়ন না ইন্টারসেকশন—সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

৩. X = {2, 4, 6} এবং Y = {4, 6, 8} হলে, X ∩ Y (ছেদ) কত?
ক) {4, 6} খ) {2, 8} গ) {2, 4, 6, 8} ঘ) {8}

সঠিক উত্তর: ক) {4, 6}

ব্যাখ্যা:
আগের প্রশ্নটিতে আমরা ইউনিয়ন বের করেছি, আর এই প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে ইন্টারসেকশন বা ছেদ সেট। ‘∩’ চিহ্নটি দ্বারা ছেদ সেট বোঝায়। ছেদ সেটের মূল ধারণা হলো, প্রদত্ত সেটগুলোর মধ্যে যে উপাদানগুলো সাধারণ বা কমন, শুধুমাত্র সেগুলো নিয়েই এই সেট গঠিত হবে। অর্থাৎ, যা উভয় পক্ষেই বিদ্যমান, কেবল তাই এখানে স্থান পাবে।

প্রশ্নে X সেটে আছে ২, ৪, ৬ এবং Y সেটে আছে ৪, ৬, ৮। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, ৪ এবং ৬ সংখ্যা দুটি উভয় সেটেই উপস্থিত আছে। কিন্তু ২ শুধু X এ এবং ৮ শুধু Y এ আছে, তাই এগুলো বাদ যাবে। সুতরাং নির্ণেয় সেট হবে {৪, ৬}। মনে রাখার সহজ কৌশল হলো, ‘U’ মানে সব লসাগুর মতো (কমন+আনকমন), আর ‘∩’ মানে গসাগুর মতো (শুধু কমন)। এই টেকনিকটি পরীক্ষায় সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে।

৪. একটি বাক্সে ৫টি সাদা, ৩টি লাল ও ৪টি নীল বল আছে। দৈবচয়ন একটি বল তুললে সেটি নীল হওয়ার সম্ভাবনা কত?
ক) 5/12 খ) 1/3 গ) 3/12 ঘ) 4/7

সঠিক উত্তর: খ) 1/3

ব্যাখ্যা:
সম্ভাবনা বা Probability-র অংকগুলো চাকরির পরীক্ষায় খুবই কমন। এই অংকটি সমাধান করতে হলে প্রথমে আমাদের মোট বলের সংখ্যা বা মোট নমুনা ক্ষেত্র বের করতে হবে। এখানে সাদা বল ৫টি, লাল বল ৩টি এবং নীল বল ৪টি। তাহলে মোট বলের সংখ্যা হলো (৫ + ৩ + ৪) = ১২টি। সম্ভাবনার সূত্র হলো: অনুকূল ফলাফল ÷ মোট ফলাফল।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে বলটি নীল হওয়ার সম্ভাবনা কত। আমাদের নীল বল আছে ৪টি, অর্থাৎ অনুকূল ফলাফল ৪। আর মোট ফলাফল হলো ১২। তাহলে সম্ভাবনা হবে ৪/১২। এটিকে লঘিষ্ঠ আকারে বা কাটাকাটি করলে আমরা পাই ১/৩। অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ৪/১২ উত্তর খোঁজেন, কিন্তু অপশনে ১/৩ থাকায় বিভ্রান্ত হতে পারেন।  সঠিক উত্তর বের করার পর অপশনের সাথে মিলছে না দেখলে অবশ্যই কাটাকাটি করে দেখবেন। এটি একটি সহজ কিন্তু ট্রিকি প্রশ্ন ছিল।

৫. m + n = 9 এবং mn = 18 হলে, m² + n² এর মান কত?
ক) 45 খ) 55 গ) 63 ঘ) 81

সঠিক উত্তর: ক) 45

ব্যাখ্যা:
বীজগণিতের মান নির্ণয়ের এই অংকটি সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই সমাধান করা যায়। আমাদের বের করতে বলা হয়েছে m² + n² এর মান। আমরা জানি, a² + b² এর দুটি সূত্র আছে। মান দেওয়া আছে (m + n) এর, তাই আমরা প্লাসের সূত্রটি ব্যবহার করব। সূত্রটি হলো: m² + n² = (m + n)² – 2mn।

এখন শুধু মানগুলো বসিয়ে দিলেই উত্তর চলে আসবে। (m + n) এর মান ৯, তাই ৯ এর বর্গ করলে পাই ৮১। আর mn এর মান ১৮, তাই 2mn হবে (২ × ১৮) = ৩৬। এখন ৮১ থেকে ৩৬ বিয়োগ করলে থাকে ৪৫। সুতরাং সঠিক উত্তর ৪৫।  অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা সূত্রে +2mn হবে নাকি -2mn হবে তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। মনে রাখবেন, ভেতরে প্লাস থাকলে বাইরে মাইনাস হবে। এই ছোট টেকনিকটি মনে রাখলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

২১. একটি সলিড সিলিন্ডারের ব্যাস ৪.২ মিটার এবং উচ্চতা ৬.৪ মিটার। সিলিন্ডারটি যে পদার্থ দিয়ে তৈরি তার আপেক্ষিক গুরুত্ব ০.৭৫। সিলিন্ডারটিকে খাড়াভাবে পানিতে ডুবানো হলে, সিলিন্ডারের নিচ হতে সেন্টার অব বয়েন্সি (center of buoyancy) দূরত্ব কত?
ক) ৪.৪০০ মিটার খ) ৩.২০০ মিটার গ) ২.৪০০ মিটার ঘ) ২.১৩৩ মিটার

সঠিক উত্তর: গ) ২.৪০০ মিটার

ব্যাখ্যা:
ফ্লুইড মেকানিক্সের এই অংকটি আর্কিমিডিসের নীতি ও ভাসমান বস্তুর স্থায়িত্ব সম্পর্কিত। এখানে দেওয়া আছে সিলিন্ডারের উচ্চতা (H) = ৬.৪ মি এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব (S) = ০.৭৫। যেহেতু বস্তুটি পানিতে ভাসছে, তাই সাম্যাবস্থায় বস্তুর ওজন এবং অপসারিত পানির ওজন সমান হবে।
গাণিতিকভাবে, নিমজ্জিত অংশের গভীরতা (h) = বস্তুর উচ্চতা (H) × বস্তুর আপেক্ষিক গুরুত্ব (S)।
সুতরাং, h = ৬.৪ × ০.৭৫ = ৪.৮ মিটার। অর্থাৎ সিলিন্ডারটির ৪.৮ মিটার পানির নিচে থাকবে।

Center of Buoyancy (প্লবতা কেন্দ্র) সর্বদা অপসারিত তরলের আয়তন কেন্দ্রের (Centroid) ওপর অবস্থান করে। যেহেতু এটি খাড়াভাবে ভাসছে এবং আকৃতি সুষম, তাই প্লবতা কেন্দ্রটি নিমজ্জিত অংশের ঠিক মাঝখানে থাকবে।
সুতরাং, নিচ থেকে প্লবতা কেন্দ্রের দূরত্ব (KB) = নিমজ্জিত গভীরতা / ২
= ৪.৮ / ২ = ২.৪ মিটার।
সূত্রটি (KB = Sh/2) মনে রাখলে খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।

২২. পানি ভর্তি একটি চৌবাচ্চার নিচের অংশে ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১৬ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি আনুভূমিক পাইপ (sharp-edged) দিয়ে ৫২ লিটার/সেকেন্ড হারে পানি নির্গত হচ্ছে। চৌবাচ্চা হতে পানি পাইপে প্রবেশের পথে হেড লস কত?
ক) ০.৭১ মিটার খ) ০.১৭ মিটার গ) ০.৪০ মিটার ঘ) ০.০৪ মিটার

সঠিক উত্তর: খ) ০.১৭ মিটার

ব্যাখ্যা:
এটি হাইড্রলিক্সের পাইপ ফ্লো সংক্রান্ত সমস্যা। এখানে ‘Entrance Loss’ বা প্রবেশের মুখে শক্তির অপচয় বের করতে বলা হয়েছে। Sharp-edged বা তীক্ষ্ণ ধারের প্রবেশের ক্ষেত্রে লস কো-এফিশিয়েন্ট (K) এর মান সাধারণত ০.৫ ধরা হয়। হেড লসের সূত্র হলো: hL = K × (v²/2g)।
প্রথমে বেগ (v) বের করতে হবে। ডিসচার্জ Q = ৫২ লিটার/সেকেন্ড = ০.০৫২ ঘনমিটার/সেকেন্ড।
পাইপের ব্যাস d = ১৬ সেমি = ০.১৬ মি। ক্ষেত্রফল A = πd²/4 = ৩.১৪১৬ × (০.১৬)² / ৪ ≈ ০.০২০১ বর্গমিটার।
বেগ v = Q / A = ০.০৫২ / ০.০২০১ ≈ ২.৫৮ মি/সেকেন্ড।
বেগ জনিত হেড (Velocity Head) = v² / 2g = (২.৫৮)² / (২ × ৯.৮১) ≈ ০.৩৩৯ মিটার।
এখন, হেড লস = ০.৫ × ০.৩৩৯ ≈ ০.১৬৯৫ মিটার, যা ০.১৭ মিটারের খুব কাছাকাছি।
তাই সঠিক উত্তর ০.১৭ মিটার। 

২৩. একটি আয়তকার চ্যানেলের প্রস্থ ১০ মিটার এবং পানির গভীরতা ৩ মিটার হলে, উক্ত চ্যানেলের ভিজা পরিসীমা (wetted perimeter) কত হবে?
ক) ২৬ মিটার খ) ১৩ মিটার গ) ১৬ মিটার ঘ) ২৩ মিটার

সঠিক উত্তর: গ) ১৬ মিটার

ব্যাখ্যা:
ওপেন চ্যানেল ফ্লো-এর একেবারে মৌলিক একটি প্রশ্ন এটি। ভিজা পরিসীমা বা Wetted Perimeter (P) বলতে চ্যানেলের সেই অংশের দৈর্ঘ্য বোঝায় যা পানির সংস্পর্শে থাকে। একটি আয়তকার চ্যানেলের ক্ষেত্রে পানি তলা (Bottom) এবং দুই পাশের দেয়াল (Sides) স্পর্শ করে থাকে।
সুতরাং সূত্রটি হলো: P = b + 2d।
এখানে, প্রস্থ (b) = ১০ মিটার এবং গভীরতা (d) = ৩ মিটার।
মান বসালে পাই: P = ১০ + (২ × ৩) = ১০ + ৬ = ১৬ মিটার।

অনেকে ভুল করে পরিসীমার সাধারণ সূত্র ২(দৈর্ঘ্য + প্রস্থ) ব্যবহার করেন, যা এখানে প্রযোজ্য নয়। কারণ উপরের অংশ বা Free surface খোলা থাকে, সেখানে কোনো দেয়াল নেই।

৩৩. একটি ২০০০ মিটার ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকায় গড় বার্ষিক ২০০ সেমি বৃষ্টিপাতের কারণে গড় প্রবাহের পরিমাণ ১ ঘনমিটার/সেকেন্ড পাওয়া গেল। উক্ত ক্যাচমেন্টের রান-অফ সহগ কত?
ক) ০.৬২ খ) ০.৬৯ গ) ০.৭২ ঘ) ০.৭৯

সঠিক উত্তর: ঘ) ০.৭৯

ব্যাখ্যা:
এই অংকটিতে একক নিয়ে একটি ছোট বিভ্রান্তি আছে। ‘২০০০ মিটার’ ক্ষেত্রফল বলতে সম্ভবত ‘২০০০ হেক্টর’ বোঝানো হয়েছে, কারণ ১ ঘনমিটার/সেকেন্ড রান-অফ ২০০০ বর্গমিটার জায়গার জন্য অসম্ভব। আমরা ২০০০ হেক্টর ধরে সমাধান করলে পাই:
ক্ষেত্রফল (A) = ২০০০ হেক্টর = ২০০০ × ১০,০০০ = ২,০০,০০,০০০ বর্গমিটার।
বার্ষিক বৃষ্টিপাত = ২০০ সেমি = ২ মিটার।
মোট বৃষ্টির আয়তন = ২ × ২,০০,০০,০০০ = ৪,০০,০০,০০০ ঘনমিটার/বছর।
গড় প্রবাহ (Runoff) = ১ ঘনমিটার/সেকেন্ড।
১ বছরে মোট রান-অফ = ১ × ৩৬৫ × ২৪ × ৩৬০০ = ৩,১৫,৩৬,০০০ ঘনমিটার।
রান-অফ সহগ (C) = মোট রান-অফ / মোট বৃষ্টি = ৩,১৫,৩৬,০০০ / ৪,০০,০০,০০০ = ০.৭৮৮৪।
যা ০.৭৯ এর খুব কাছাকাছি। তাই সঠিক উত্তর ০.৭৯। 

৩৪. প্রতি ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত হলে তাকে হালকা বৃষ্টিপাত বলে?
ক) ০ – ২.৫ মি.মি. খ) ০ – ২.৫ সে.মি. গ) ১ – ২.৫ সে.মি. ঘ) ১ – ৩.৫ সে.মি.

সঠিক উত্তর: ক) ০ – ২.৫ মি.মি.

ব্যাখ্যা:
আবহাওয়াবিদ্যা বা হাইড্রলজি অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের তীব্রতাকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যদি প্রতি ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২.৫ মি.মি. (mm) এর কম হয়, তবে তাকে হালকা বৃষ্টিপাত (Light Rain) বলে। ২.৫ থেকে ৭.৫ মি.মি. হলে মাঝারি এবং ৭.৫ মি.মি. এর বেশি হলে ভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়। অপশনগুলোতে ‘সে.মি.’ একক দেওয়া আছে যা ভুল, সঠিক একক হবে ‘মি.মি.’। তাই অপশন ‘ক’ সঠিক। assistant engineer sub question solution 2026 এর জন্য এই স্ট্যান্ডার্ড মানগুলো মুখস্থ রাখা জরুরি।

৩৭. একটি ২ ইঞ্চি ব্যাসের লোহায় দণ্ডে ১৫০০০ পাউন্ড টান লোড প্রয়োগ করা হলো। যদি ইয়ং-এর মডুলাস ২৯ × ১০^৬ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি হয়, তবে দণ্ডে উৎপন্ন লম্বীয় বিকৃতির মান (ইঞ্চি/ইঞ্চি) কত?
ক) ১.৭৪ × ১০^-৪ খ) ৫.৮২ × ১০^-৪ গ) ৫.০২ × ১০^-৪ ঘ) ৭.০২ × ১০^-৪

সঠিক উত্তর: ক) ১.৭৪ × ১০^-৪ (কাছাকাছি মান)

ব্যাখ্যা:
দেওয়া আছে, লোড P = ১৫০০০ পাউন্ড, ব্যাস d = ২ ইঞ্চি, মডুলাস E = ২৯ × ১০^৬ psi।
প্রথমে দণ্ডের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বের করি: A = (πd²)/4 = (৩.১৪১৬ × ২²)/৪ = ৩.১৪১৬ বর্গইঞ্চি।
পীড়ন (Stress) σ = P/A = ১৫০০০ / ৩.১৪১৬ = ৪৭৭৪.৬ psi।
আমরা জানি, মডুলাস E = পীড়ন / বিকৃতি।
সুতরাং, বিকৃতি (Strain) ε = পীড়ন / E = ৪৭৭৪.৬ / (২৯ × ১০^৬) = ০.০০০১৬৪৬ বা ১.৬৫ × ১০^-৪।
অপশনগুলোর মধ্যে ১.৭৪ × ১০^-৪ মানটি সবচেয়ে কাছাকাছি। (হয়তো প্রশ্নে লোড বা ব্যাসের মানে সামান্য এদিক-সেদিক ছিল বা অপশনে রান্ডিং করা হয়েছে)।

৩৮. একটি কলামের এক প্রান্ত সম্পূর্ণ স্থির এবং অন্য প্রান্ত মুক্ত হলে, উক্ত কলামের কার্যকর (effective) দৈর্ঘ্য প্রকৃত দৈর্ঘ্যের কত?
ক) অর্ধেক খ) ০.৭ গুণ গ) সমান ঘ) দ্বিগুণ

সঠিক উত্তর: ঘ) দ্বিগুণ

ব্যাখ্যা:
কলামের বাকলিং লোড বা কার্যকর দৈর্ঘ্য (Effective Length, Le) প্রান্তীয় অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
১. উভয় প্রান্ত হিংজ বা পিন যুক্ত: Le = L
২. উভয় প্রান্ত ফিক্সড: Le = ০.৫L
৩. এক প্রান্ত ফিক্সড, অন্য প্রান্ত হিংজ: Le = ০.৭L (তাত্ত্বিক)
৪. এক প্রান্ত ফিক্সড, অন্য প্রান্ত মুক্ত (ক্যান্টিলিভার সদৃশ): Le = ২L
প্রশ্নে বলা হয়েছে এক প্রান্ত স্থির (Fixed) এবং অন্য প্রান্ত মুক্ত (Free), তাই কার্যকর দৈর্ঘ্য হবে প্রকৃত দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ (2L)। 

৩৯. একটি স্থির প্রান্তযুক্ত (ক্যান্টিলিভার) বিম-এর দৈর্ঘ্য ১০ ফুট। বিমটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য জুড়ে ৫ কিপ প্রতি ফুট হারে একটি সমবন্টিত লোড ক্রিয়াশীল। বিমটির সর্বোচ্চ মোমেন্টের মান কত হবে?
ক) ১২৫ কিপ-ফিট খ) ২৫০ কিপ-ফিট গ) ৫০০ কিপ-ফিট ঘ) ১০০ কিপ-ফিট

সঠিক উত্তর: খ) ২৫০ কিপ-ফিট

ব্যাখ্যা:
ক্যান্টিলিভার বিমের ক্ষেত্রে সমবন্টিত লোড (UDL) থাকলে সর্বোচ্চ বেন্ডিং মোমেন্ট ঘটে ফিক্সড প্রান্তে। এর সূত্র হলো: M_max = (wL²) / 2।
এখানে, w = ৫ কিপ/ফুট এবং L = ১০ ফুট।
মান বসিয়ে পাই: M_max = (৫ × ১০²) / ২ = (৫ × ১০০) / ২ = ৫০০ / ২ = ২৫০ কিপ-ফিট।
খুব সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্ক। সূত্র মনে রাখলে ক্যালকুলেটর ছাড়াই করা সম্ভব।

৪০. একটি সমবাহু ত্রিভুজের ক্ষেত্রকেন্দ্র অবস্থান করে—
ক) ভূমির উপর খ) উচ্চতার (h) মাঝখানে গ) ভূমি থেকে h/3 দূরত্বে ঘ) ভূমি থেকে 2h/3 দূরত্বে

সঠিক উত্তর: গ) ভূমি থেকে h/3 দূরত্বে

ব্যাখ্যা:
যেকোনো ত্রিভুজের ভরকেন্দ্র বা Centroid ভূমি থেকে তার উচ্চতার এক-তৃতীয়াংশ (1/3) উচ্চতায় অবস্থিত। যদি উচ্চতা ‘h’ হয়, তবে ভূমি থেকে এর দূরত্ব হবে h/3। আর শীর্ষবিন্দু (Apex) থেকে এর দূরত্ব হবে 2h/3। প্রশ্নে নির্দিষ্ট করে “সমবাহু” বললেও এই নিয়ম সব ত্রিভুজের জন্যই সত্য। তাই সঠিক উত্তর h/3।

৪১. একটি আয়তাকার বিমের প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং গভীরতা ১২ ইঞ্চি। বিমটির মেজর অক্ষ এর সাপেক্ষে জড়তার ভ্রামক কত হবে?
ক) ১০০০ ইঞ্চি^৪ খ) ১২৪০ ইঞ্চি^৪ গ) ১৪৪০ ইঞ্চি^৪ ঘ) ১০০০ ইঞ্চি^৪

সঠিক উত্তর: গ) ১৪৪০ ইঞ্চি^৪

ব্যাখ্যা:
জড়তার ভ্রামক বা Moment of Inertia (I) নির্ণয়ের সূত্র হলো: I = (bd³) / 12 (মেজর বা শক্তিশালী অক্ষের সাপেক্ষে)।
এখানে প্রস্থ b = ১০ ইঞ্চি এবং গভীরতা d = ১২ ইঞ্চি।
সুতরাং, I = (১০ × ১২³) / ১২ = ১০ × ১৪৪ = ১৪৪০ ইঞ্চি^৪।
মেজর অক্ষ বলতে সাধারণত সেই অক্ষকে বোঝায় যার সাপেক্ষে মোমেন্ট অফ ইনার্শিয়া বেশি হয়, অর্থাৎ গভীরতাকে কিউব করতে হবে।

২৫. একটি আয়তকার চৌবাচ্চায় দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৭ মিটার, ৫ মিটার ও ৪ মিটার। এটি একটি তরল পদার্থ (আপেক্ষিক গুরুত্ব ০.৮২) দ্বারা পূর্ণ আছে। চৌবাচ্চার একটি পার্শ্ব দেয়ালের ঠিক মধ্য বিন্দুতে চাপের তীব্রতা কত?
ক) ১৬৪০ kg/m² খ) ৩২৮০ kg/m² গ) ৮২০ kg/m² ঘ) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক) ১৬৪০ kg/m²

ব্যাখ্যা:
তরল স্থিতিবিদ্যার (Hydrostatics) এই প্রশ্নে চাপের তীব্রতা (Pressure Intensity) নির্ণয় করতে বলা হয়েছে। চাপের সূত্র হলো: P = wh। যেখানে ‘w’ হলো তরলের একক ওজন (Unit weight) এবং ‘h’ হলো উপর থেকে ওই বিন্দুর গভীরতা।
তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব ০.৮২, সুতরাং এর ঘনত্ব বা একক ওজন মেট্রিক ইউনিটে (MKS Technical) হবে ৮২০ কেজি/ঘনমিটার (যেহেতু পানির ১০০০ কেজি/ঘনমিটার)।
দেয়ালের উচ্চতা ৪ মিটার। দেয়ালের “মধ্য বিন্দু” মানে হলো উপর থেকে গভীরতা h = ৪ / ২ = ২ মিটার।
এখন সূত্র প্রয়োগ করি:
চাপ P = w × h = ৮২০ × ২ = ১৬৪০ কেজি/বর্গমিটার।

প্রশ্নের অপশনগুলোতে একক kg/m² দেওয়া আছে, যা মূলত বল বা ওজনের একক হিসেবে কেজি-কে ধরে হিসাব করা হয়েছে। 

৪৪. দুটি প্লেটকে একটি বোল্ট দ্বারা সংযুক্ত করা হলো। প্লেট দুটির উপর বিপরীত দিকে ১০০ কিপ করে টান বল প্রয়োগ করা হয়েছে। যদি বোল্টটির ব্যাস ৩/৪ ইঞ্চি হয় এবং বোল্টটি একক কর্তন (single shear) অবস্থায় কাজ করে, তবে বোল্টে সৃষ্ট কর্তন চাপ (shear stress) কত কিপ/ইঞ্চি²?
ক) ২২৫ খ) ৪৫০ গ) ৯০০ ঘ) ১৮১০

সঠিক উত্তর: ক) ২২৫ (প্রায়)

ব্যাখ্যা:
শিয়ার স্ট্রেস = বল / ক্ষেত্রফল।
বল F = ১০০ কিপ।
বোল্টের ব্যাস d = ৩/৪ ইঞ্চি = ০.৭৫ ইঞ্চি।
ক্ষেত্রফল A = (πd²)/4 = (৩.১৪১৬ × ০.৭৫²) / ৪ ≈ ০.৪৪১৮ বর্গইঞ্চি।
শিয়ার স্ট্রেস = ১০০ / ০.৪৪১৮ ≈ ২২৬.৩ কিপ/বর্গইঞ্চি।
অপশনে ২২৫ আছে যা ২২৬ এর খুব কাছাকাছি। তাই এটিই সঠিক উত্তর। 

৪৮. একটি ১২” x ১২” টাইড কলাম, যাতে ৮টি নম্বর ৯ রড ব্যবহার করা হয়েছে, কংক্রিটের চাপ শক্তি fc’=৪ কিপ/ইঞ্চি² এবং স্টিলের ইয়েল্ড শক্তি fy=৬০ কিপ/ইঞ্চি², কলামটির নমিনাল অক্ষীয় চাপ ধারণক্ষমতা কত?
ক) ২৪০ কিপ খ) ৪৭৬ কিপ গ) ৭১৮ কিপ ঘ) ৭৮০ কিপ

সঠিক উত্তর: ঘ) ৭৮০ কিপ

ব্যাখ্যা:
টাইড কলামের তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ লোড ক্যাপাসিটির (Nominal Axial Strength) সূত্র: Pn(max) = 0.80 × [0.85fc'(Ag – Ast) + fyAst]।
এখানে, Ag = ১২ × ১২ = ১৪৪ বর্গইঞ্চি।
৮টি #৯ বার। একটি #৯ বারের এরিয়া ১.০ বর্গইঞ্চি। তাহলে Ast = ৮.০ বর্গইঞ্চি।
সহজ বা রাফ হিসাবের জন্য অনেক সময় কংক্রিটের এরিয়া থেকে স্টিল বাদ দেওয়া হয় না।
Pn ≈ 0.80 × [0.85 × 4 × 144 + 60 × 8]
= 0.80 × [489.6 + 480]
= 0.80 × 969.6
= 775.68 কিপ।
এটি অপশন (ঘ) ৭৮০ কিপ এর সবচেয়ে কাছাকাছি। তাই সঠিক উত্তর ৭৮০ কিপ। মনে রাখবেন, স্পাইরাল কলাম হলে ০.৮০ এর বদলে ০.৮৫ গুণ হতো।

৫১. গড় টাইম হেডওয়ে (h) যদি ২.০ সেকেণ্ড হয়, তবে যানবাহনের প্রবাহ হার কত?
ক) ৯০০ যান/ঘণ্টা খ) ১২০০ যান/ঘণ্টা গ) ১৮০০ যান/ঘণ্টা ঘ) ৩৬০০ যান/ঘণ্টা

সঠিক উত্তর: গ) ১৮০০ যান/ঘণ্টা

ব্যাখ্যা:
ট্রাফিক ফ্লো (q) এবং টাইম হেডওয়ে (h)-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো: q = ৩৬০০ / h (যখন h সেকেন্ডে এবং q ঘণ্টায়)।
এখানে h = ২.০ সেকেন্ড।
সুতরাং, প্রবাহ হার q = ৩৬০০ / ২ = ১৮০০ যানবাহন প্রতি ঘণ্টা।
এটি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর খুব সহজ একটি সূত্র। হেডওয়ে হলো একটি গাড়ির বাম্পার থেকে পেছনের গাড়ির বাম্পার পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান।

সাধারণ জ্ঞান

৬. পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে?
ক) আটলান্টিক ও ভারত খ) প্রশান্ত ও আর্কটিক গ) আটলান্টিক ও প্রশান্ত ঘ) ভারত ও প্রশান্ত

সঠিক উত্তর: গ) আটলান্টিক ও প্রশান্ত

ব্যাখ্যা:
সাধারণ জ্ঞানের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশে প্রণালী ও খাল থেকে প্রশ্ন প্রায়ই আসে। পানামা খাল হলো মানবসৃষ্ট একটি জলপথ যা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং একই সাথে দুটি বিশাল মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। এই খালটি আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট, কারণ এটি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আমেরিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

মনে রাখার সহজ উপায় হলো, আমেরিকার মানচিত্র কল্পনা করা। আমেরিকার একপাশে আটলান্টিক এবং অন্যপাশে প্রশান্ত মহাসাগর। মাঝখানের সরু অংশটিই পানামা, যা এই দুই জলরাশিকে মিলিয়েছে। সুয়েজ খাল এবং পানামা খাল—এই দুটি প্রায়ই অল্টারনেট করে পরীক্ষায় আসে। সুয়েজ খাল ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে, আর পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে।

৭. “BRICS” জোটে কোন দেশ অন্তর্ভুক্ত নয়?
ক) ব্রাজিল খ) ভারত গ) চীন ঘ) সিঙ্গাপুর

সঠিক উত্তর: ঘ) সিঙ্গাপুর

ব্যাখ্যা:
ব্রিকস (BRICS) হলো বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির পাঁচটি দেশের একটি জোট। এর নামটির প্রতিটি অক্ষর একটি করে সদস্য দেশের নামের আদ্যক্ষর নির্দেশ করে। B তে Brazil (ব্রাজিল), R তে Russia (রাশিয়া), I তে India (ভারত), C তে China (চীন) এবং S তে South Africa (দক্ষিণ আফ্রিকা)। প্রশ্নটি নেতিবাচক, অর্থাৎ কোনটি সদস্য নয় তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

অপশনগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, ভারত এবং চীন—এই তিনটিই ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু সিঙ্গাপুর ব্রিকসের সদস্য নয়। সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নত দেশ হলেও এই নির্দিষ্ট জোটের অংশ নয়। সম্প্রতি ব্রিকসে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার আলোচনা চলছে, তাই বর্তমান ও নতুন সদস্যদের নাম জেনে রাখা ভালো। পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় ‘নয়’ শব্দটি খেয়াল করেন না, তাই প্রশ্ন পড়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

৮. বাংলাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাস ক্ষেত্র কোনটি?
ক) বিবিয়ানা খ) শাহবাজপুর গ) তিতাস ঘ) হরিপুর

সঠিক উত্তর: ঘ) হরিপুর

ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পদের ইতিহাসে এই প্রশ্নটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশে প্রথম গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এটিই ছিল দেশের প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাস ক্ষেত্র। পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (PPL) এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে এখান থেকেই সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় এবং তা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করা হতো।

অন্য অপশনগুলোর মধ্যে তিতাস হলো দেশের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর একটি, কিন্তু প্রথম নয়। বিবিয়ানা ও শাহবাজপুর অনেক পরে আবিষ্কৃত হয়েছে। মনে রাখার জন্য সালটি (১৯৫৫) এবং স্থানটি (সিলেট) গুরুত্বপূর্ণ। হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রের আবিষ্কারের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল, যা আজও আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

৯. বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কোন তারিখে?
ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১ গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ ঘ) ৪ নভেম্বর ১৯৭২

সঠিক উত্তর: ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২

ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কিত তারিখগুলো নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এখানে দুটি তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ: সংবিধান ‘গৃহীত’ হওয়ার তারিখ এবং ‘কার্যকর’ হওয়ার তারিখ। বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে। কিন্তু এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর বা বলবৎ হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ তারিখ থেকে, যা আমাদের মহান বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী ছিল।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে কবে ‘কার্যকর’ হয়। তাই সঠিক উত্তর হবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। যদি প্রশ্ন আসতো কবে ‘গৃহীত’ হয়, তবে উত্তর হতো ৪ নভেম্বর। assistant engineer sub question solution 2026 প্রস্তুত করার সময় সংবিধানের এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নজরে রাখা জরুরি। সংবিধান প্রনয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন। মাত্র এক বছরের কম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান উপহার দেওয়া ছিল জাতির জন্য এক বিশাল অর্জন। এই তারিখটি মনে রাখা প্রত্যেক সচেতন নাগরিক ও পরীক্ষার্থীর কর্তব্য।

১০. আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২০-এ বাংলাদেশ ফাইনালে কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়?
ক) অস্ট্রেলিয়া খ) দক্ষিণ আফ্রিকা গ) ভারত ঘ) ইংল্যান্ড

সঠিক উত্তর: গ) ভারত

ব্যাখ্যা:
এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে বাংলাদেশ শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে এই শিরোপা জিতেছিল। বৃষ্টি বিঘ্নিত সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ভারতকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে।

এই প্রশ্নটি সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান বা বাংলাদেশ বিষয়াবলি হিসেবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ কোনো বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করে, তখন সেটি পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য হট টপিক হয়ে যায়। মনে রাখার বিষয় হলো: সাল ২০২০, ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রতিপক্ষ ভারত এবং ফলাফল চ্যাম্পিয়ন। এই চারটি তথ্য জানলে এই সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।

২৮. Command area বলতে কী বোঝায়?
ক) নদী এলাকা খ) সেচ এলাকা গ) পাহাড়ী এলাকা ঘ) সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রফল

সঠিক উত্তর: ঘ) সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রফল

ব্যাখ্যা:
ইরিগেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ‘Command Area’ বা কমান্ড এরিয়া একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। সহজ কথায়, একটি সেচ খালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, সেই পুরো এলাকাটিকে ওই খালের কমান্ড এরিয়া বলা হয়।
এটি দুই ধরনের হয়: Gross Command Area (GCA) এবং Culturable Command Area (CCA)। মূল কথা হলো, এটি সেই জমি বা ক্ষেত্রফল নির্দেশ করে যা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন।
অপশনগুলোর মধ্যে ‘ঘ’ তে বলা হয়েছে “সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রফল”, যা কমান্ড এরিয়ার সংজ্ঞার সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ‘সেচ এলাকা’ (অপশন খ) এর চেয়ে ‘জমির ক্ষেত্রফল’ কথাটি বেশি টেকনিক্যাল এবং সঠিক। SAE question solution 2026 এর সেচ প্রকৌশল অংশে এই সংজ্ঞাগুলো প্রায়ই আসে।

২৯. Groundwater over-exploitation এর ফল কোনটি?
ক) Water table বৃদ্ধি খ) পানির মান উন্নত গ) Water table নিচে নেমে যাওয়া ঘ) বৃষ্টি বৃদ্ধি

সঠিক উত্তর: গ) Water table নিচে নেমে যাওয়া

ব্যাখ্যা:
ভূ-গর্ভস্থ পানি বা Groundwater আমাদের সুপেয় পানির অন্যতম উৎস। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করলে বা Over-exploitation করলে মাটির নিচের পানির স্তর বা Water Table দ্রুত নিচে নেমে যায়। এর ফলে টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যায় না, ভূমির ডেবে যাওয়ার (Subsidence) ঝুঁকি বাড়ে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অপশন ‘ক’ ভুল, কারণ পানি তুললে লেভেল বাড়ে না, কমে। অপশন ‘গ’ তে বলা হয়েছে “Water table নিচে নেমে যাওয়া”, যা অতিরিক্ত উত্তোলনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। বর্তমান সময়ে এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ভয়াবহ পরিবেশগত সমস্যা। 

৩০. কারেন্ট মিটার দিয়ে কী পরিমাপ করা হয়?
ক) গভীরতা খ) প্রবাহের বেগ গ) প্রবাহের দৈর্ঘ্য ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ) প্রবাহের বেগ

ব্যাখ্যা:
হাইড্রমিতি বা ফ্লুইড মেকানিক্সে ‘কারেন্ট মিটার’ (Current Meter) একটি বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। এটি মূলত নদী বা খোলা চ্যানেলের (Open Channel) পানির প্রবাহের বেগ (Velocity of flow) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রে একটি রোটেটিং অংশ থাকে যা পানির স্রোতে ঘোরে এবং সেই ঘূর্ণন সংখ্যা থেকে বেগের মান নির্ণয় করা হয়। গভীরতা মাপার জন্য সাউন্ডিং রড বা ইকো সাউন্ডার ব্যবহার করা হয়, কারেন্ট মিটার নয়।

৩১. Irrigation efficiency বলতে কী বোঝায়?
ক) ব্যবহৃত পানির কার্যকারিতা খ) পানির গুণমান গ) পানির দাম ঘ) পানির গভীরতা

সঠিক উত্তর: ক) ব্যবহৃত পানির কার্যকারিতা

ব্যাখ্যা:
সেচ দক্ষতা বা Irrigation Efficiency হলো একটি অনুপাত যা নির্দেশ করে সরবরাহকৃত পানির কতটুকু অংশ প্রকৃতপক্ষে ফসলের কাজে বা জমিতে ব্যবহৃত হয়েছে। সহজ কথায়, এটি পানির অপচয় রোধ করে কার্যকর ব্যবহারের নির্দেশক। গাণিতিকভাবে এটি হলো (ফসলের প্রয়োজনীয় পানি / সরবরাহকৃত পানি) × ১০০। তাই এটি মূলত ‘ব্যবহৃত পানির কার্যকারিতা’ বা Effectiveness বোঝায়। গুণমান বা দামের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। 

৩২. Waterlogging এর প্রধান ক্ষতি কোনটি?
ক) ফসলের শিকড় পচে যাওয়া খ) মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি গ) উৎপাদন বৃদ্ধি ঘ) মাটির শক্তি বৃদ্ধি

সঠিক উত্তর: ক) ফসলের শিকড় পচে যাওয়া

ব্যাখ্যা:
যখন জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি জমে যায় এবং মাটি পানিসিক্ত (Saturated) অবস্থায় থাকে, তখন তাকে জলাবদ্ধতা বা Waterlogging বলে। এর ফলে মাটির রন্ধ্রে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অক্সিজেনের অভাবে ফসলের শিকড় শ্বাস নিতে পারে না এবং পচে যায়, যা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং শেষ পর্যন্ত গাছ মারা যায়। অন্য অপশনগুলো ভুল কারণ জলাবদ্ধতায় উর্বরতা বা উৎপাদন কমে যায়। SAE question solution 2026 এর জন্য এই পরিবেশগত প্রভাবগুলো জেনে রাখা ভালো।

৩৫. বৃষ্টিপাতের সময়ের সাথে বৃষ্টিপাতের পানির গভীরতার পুঞ্জীভূত পরিমাণের লেখচিত্রকে কী বলে?
ক) হাইয়েটোগ্রাফ খ) হাইড্রোগ্রাফ গ) মাস কার্ভ ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ) মাস কার্ভ (Mass curve)

ব্যাখ্যা:
বৃষ্টিপাতের ক্রমযোজিত পরিমাণ (Cumulative Rainfall) এবং সময়ের (Time) মধ্যে যে গ্রাফ আঁকা হয়, তাকে রেইনফল মাস কার্ভ বা Rainfall Mass Curve বলে। এটি থেকে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যায়। অন্যদিকে, সময়ের সাথে বৃষ্টিপাতের তীব্রতার (Intensity) গ্রাফকে হাইয়েটোগ্রাফ (Hyetograph) এবং সময়ের সাথে প্রবাহের (Discharge) গ্রাফকে হাইড্রোগ্রাফ (Hydrograph) বলে। পরীক্ষার হলে এই তিনটি গ্রাফের সংজ্ঞা গুলিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

৩৬. কোন সূত্রের সাহায্যে বাষ্পীভবনের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়?
ক) ডাল্টন খ) হ্যাজেন গ) ডার্সি ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক) ডাল্টন (Dalton)

ব্যাখ্যা:
বাষ্পীভবন বা Evaporation নির্ণয়ের জন্য ডাল্টনের সূত্র (Dalton’s Law) সবচেয়ে মৌলিক এবং জনপ্রিয়। সূত্রটি হলো: E = C(es – ea)। যেখানে E হলো বাষ্পীভবনের হার, es হলো সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ এবং ea হলো প্রকৃত বাষ্পচাপ। হ্যাজেন সূত্র সাধারণত পার্মিবিলিটি বা ফিল্ট্রেশনের সাথে যুক্ত এবং ডার্সি সূত্র ভূ-গর্ভস্থ পানি প্রবাহের সাথে যুক্ত। 

 

৪২. লম্বীয় চাপ (Normal stress) কোন ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়?
ক) বল যখন পৃষ্ঠের সমান্তরাল খ) বল যখন পৃষ্ঠের লম্ব গ) বল যখন ঘূর্ণন সৃষ্টি করে ঘ) বল যখন ত্বরণ সৃষ্টি করে

সঠিক উত্তর: খ) বল যখন পৃষ্ঠের লম্ব

ব্যাখ্যা:
পীড়ন বা Stress প্রধানত দুই প্রকার: নরমাল স্ট্রেস এবং শিয়ার স্ট্রেস। যখন প্রযুক্ত বল কোনো তলের বা পৃষ্ঠের সাথে লম্বভাবে (৯০ ডিগ্রিতে) ক্রিয়া করে, তখন যে পীড়ন সৃষ্টি হয় তাকে লম্বীয় চাপ বা Normal Stress বলে। আর বল যদি তলের সমান্তরালে ক্রিয়া করে, তবে তাকে শিয়ার স্ট্রেস (Shear Stress) বলে। নামের মধ্যেই ‘নরমাল’ বা ‘লম্ব’ কথাটি লুকিয়ে আছে।

৪৯. BNBC 2020 অনুযায়ী বাংলাদেশে ভূমিকম্প অঞ্চল কয়টি?
ক) ২টি খ) ৩টি গ) ৪টি ঘ) ৫টি

সঠিক উত্তর: গ) ৪টি

ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে ৪টি জোনে (Zone 1, 2, 3, 4) ভাগ করা হয়েছে। পুরনো কোডে (১৯৯৩) এটি ৩টি জোন ছিল, কিন্তু নতুন আপডেটেড কোডে এটি ৪টি। জোন ৪ হলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ (সিলেট ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল) এবং জোন ১ হলো সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ (দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল)। 

৫০. ভ্রমণ প্রবণতা (Travel Propensity) হ্রাস পাওয়ার সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত –
ক) দূরত্ব খ) ভ্রমণ সময় গ) সড়কের প্রস্থ ঘ) যানবাহনের ধরন

সঠিক উত্তর: ক) দূরত্ব

ব্যাখ্যা:
ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ‘গ্রাভিটি মডেল’ অনুযায়ী, দুটি স্থানের মধ্যে যাতায়াত বা ট্রিপ সংখ্যা তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, দূরত্ব যত বাড়ে, মানুষের ভ্রমণের প্রবণতা বা Travel Propensity তত দ্রুত হ্রাস পায়। সময় বা ভাড়াও প্রভাব ফেলে, কিন্তু ‘দূরত্ব’ হলো প্রধান এবং মৌলিক ফ্যাক্টর যা সরাসরি ভ্রমণ ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়।

৩. স্যুয়ারেজ ব্যবস্থায় কালো পানি (Black water) বলতে বোঝায়—
ক) বৃষ্টির পানি খ) রান্নাঘরের পানি গ) ইউরিনাল হতে নির্গত বর্জ্য পানি ঘ) শিল্প বর্জ্য

সঠিক উত্তর: গ) ইউরিনাল হতে নির্গত বর্জ্য পানি

ব্যাখ্যা:
গৃহস্থালি বর্জ্য পানি দুই প্রকার:
১. ব্ল্যাক ওয়াটার (Black Water): টয়লেট, ইউরিনাল বা কমোড থেকে আসা মলমূত্র মিশ্রিত পানি। এটি অত্যন্ত দূষিত এবং রোগজীবাণু পূর্ণ।
২. গ্রে ওয়াটার (Grey Water): রান্নাঘর, গোসলখানা বা বেসিন থেকে আসা সাবান মিশ্রিত পানি (মলমূত্র ছাড়া)।
সুতরাং ইউরিনাল বা টয়লেটের পানিই হলো কালো পানি।

ইংরেজি

১১. Choose the correct pronoun: Sarah and _____ are going to the market.
a. me b. I c. myself d. mine

সঠিক উত্তর: b. I

ব্যাখ্যা:
ইংরেজি গ্রামারের Subjective এবং Objective case-এর ব্যবহার নিয়ে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। বাক্যের শুরুতে যখন কেউ কাজ সম্পাদন করে (Subject), তখন সেখানে Pronoun-এর Subjective form বসে। এখানে ‘Sarah’ এবং অন্য একজন ব্যক্তি মার্কেটে যাচ্ছে, অর্থাৎ তারা কর্তা। তাই এখানে ‘I’ (আমি) বসবে। অনেকেই ভুল করে ‘me’ ব্যবহার করেন, যেমন ‘Sarah and me’। কিন্তু ‘me’ হলো Objective form যা সাধারণত verb-এর পরে বসে।

সঠিক বাক্যটি হলো: “Sarah and I are going to the market.” এটি চেক করার একটি সহজ উপায় হলো ‘Sarah’ বাদ দিয়ে বাক্যটি পড়া। আপনি কি বলবেন “Me am going to market” নাকি “I am going to market”? অবশ্যই “I am going”। তাই ‘Sarah’ যোগ করলেও সেটি ‘I’ ই থাকবে। SAE question solution 2026 এর ইংরেজি অংশে এমন বেসিক গ্রামার প্রায়ই আসে। নিজেকে যাচাই করার জন্য এই ‘Isolation technique’ বা আলাদা করে পড়ার কৌশলটি খুব কার্যকর।

১২. Which is an example of a compound sentence?
a. She is tired. b. She is tired, but she will continue working. c. Being tired, she worked. d. She will working tired.

সঠিক উত্তর: b. She is tired, but she will continue working.

ব্যাখ্যা:
Compound sentence বা যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায় হলো, এতে দুটি স্বাধীন বাক্য (Independent Clause) থাকে যা কোনো Coordinating Conjunction (যেমন: and, but, or, so) দ্বারা যুক্ত থাকে। অপশন ‘b’-তে লক্ষ্য করুন: “She is tired” একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য এবং “she will continue working” আরেকটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। এই দুটি বাক্যকে ‘but’ দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে। তাই এটি একটি Compound sentence।

অন্য অপশনগুলোর মধ্যে, ‘a’ হলো Simple sentence। ‘c’ তে “Being tired” ব্যবহার করায় এটিও Simple sentence (Participial phrase ব্যবহৃত হয়েছে)। ‘d’ এর গঠনটি গ্রামাটিক্যালি ভুল। 

১৩. Which word is a conjunction?
a. Quickly b. But c. Though d. Beautiful

সঠিক উত্তর: b. But

ব্যাখ্যা:
Parts of Speech শনাক্তকরণ চাকরির পরীক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। Conjunction হলো সেই সব শব্দ যা দুটি শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যকে সংযুক্ত করে। এখানে ‘But’ হলো একটি Coordinating Conjunction যা দুটি বিপরীতধর্মী বা ভিন্ন ভাব প্রকাশকারী বাক্যকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: “He is poor but honest.”

অন্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: ‘Quickly’ হলো Adverb (কাজের গতি বোঝাচ্ছে), ‘Beautiful’ হলো Adjective (দোষ-গুণ বোঝাচ্ছে)। ‘Though’ শব্দটিও Conjunction হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে (Subordinating), কিন্তু অপশনে যখন ‘But’ এবং ‘Though’ দুটিই থাকে, তখন সাধারণত ‘But’ কে পিওর Conjunction বা Coordinating Conjunction এর প্রধান উদাহরণ হিসেবে সঠিক উত্তর ধরা হয়। 

১৪. Choose the correct form of the verb: If I ____ enough money, I would buy a car.
a. have b. had c. have had d. will have

সঠিক উত্তর: b. had

ব্যাখ্যা:
এটি Conditional Sentence বা শর্তযুক্ত বাক্যের একটি উদাহরণ। নির্দিষ্ট করে বললে, এটি Second Conditional। নিয়ম অনুযায়ী, যদি ‘If’ যুক্ত অংশটি Past Indefinite Tense-এ থাকে, তবে অপর অংশটিতে Subject + would/could/might + Verb-এর Base form বসে। এখানে বাক্যের দ্বিতীয় অংশে “I would buy a car” আছে, যা প্রমাণ করে এটি Second Conditional।

সুতরাং, প্রথম অংশটি অবশ্যই Past Indefinite Tense হবে। তাই শূন্যস্থানে ‘have’-এর Past form ‘had’ বসবে। পূর্ণ বাক্যটি হবে: “If I had enough money, I would buy a car.” (যদি আমার পর্যাপ্ত টাকা থাকত, আমি একটি গাড়ি কিনতাম)। Cমনে রাখার নিয়ম: would buy = had, will buy = have, would have bought = had had.

১৫. Identify the type of sentence: Close the door.
a. Interrogative b. Exclamatory c. Assertive d. Imperative

সঠিক উত্তর: d. Imperative

ব্যাখ্যা:
যে বাক্য দ্বারা কোনো আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, উপদেশ বা প্রস্তাব বোঝানো হয়, তাকে Imperative Sentence বা অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। “Close the door” (দরজাটি বন্ধ করো)—এই বাক্যটি দিয়ে সরাসরি একটি আদেশ বা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত Imperative sentence-এ Subject (You) উহ্য থাকে এবং বাক্যটি মূল Verb দিয়ে শুরু হয়।

এখানে অপশনগুলো দেখলে বোঝা যায়: Interrogative প্রশ্ন করে, Exclamatory আবেগ প্রকাশ করে এবং Assertive সাধারণ বিবৃতি দেয়। যেহেতু এটি আদেশ দিচ্ছে, তাই এটি নিঃসন্দেহে Imperative। 

বাংলা

১৬. কোন বর্গের শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর প্রয়োগ রয়েছে?
ক) বাংলা খ) তৎসম গ) অর্ধ ঘ) বিদেশি

সঠিক উত্তর: খ) তৎসম

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের ‘ণত্ব ও ষত্ব বিধান’ অধ্যায় থেকে এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার নেই। কিন্তু সংস্কৃত থেকে আগত বা ‘তৎসম’ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার অবিকৃত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়। দেশি, বিদেশি বা তদ্ভব শব্দে সাধারণত ‘ষ’ এর ব্যবহার হয় না, সেখানে ‘স’ বা ‘শ’ ব্যবহৃত হয়।

যেমন: কৃষি, কৃষক, বর্ষা, মানুষ—এগুলো সব তৎসম শব্দ এবং এখানে ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে। এই নিয়মটি ‘ষত্ব বিধান’ নামে পরিচিত।  মনে রাখার টেকনিক হলো: ঋ, র, ষ—এই তিন বর্ণের পর মূর্ধন্য ‘ণ’ এবং মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়, এবং এই নিয়মটি কেবল তৎসম শব্দের জন্য এক্সক্লুসিভ।

১৭. “রাজ্ঞী” এর সন্ধি বিচ্ছেদ কর।
ক) রাজ + নী খ) রাজ্ + নি গ) রাজ + ঞী ঘ) রাজ্ + নী

সঠিক উত্তর: ক) রাজ্ + নী

ব্যাখ্যা:
সন্ধি বিচ্ছেদ বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘রাজ্ঞী’ শব্দটি সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে গঠিত হয়েছে। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘রাজ্ + নী’। এখানে ‘রাজ্’ (রাজন্ শব্দের রূপ) এর সাথে স্ত্রীবাচক প্রত্যয় ‘নী’ যুক্ত হয়ে রাজ্ঞী গঠিত হয়েছে। ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, জ্ এর পরে নাসিক্য ধ্বনি থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে জ্ঞ (জ + ঞ) এর মতো রূপ ধারণ করে বা উচ্চারিত হয়।

অনেকে অপশন দেখে বিভ্রান্ত হতে পারেন কারণ ‘জ্ঞ’ যুক্তাক্ষরটি জ+ঞ দিয়ে তৈরি। কিন্তু সন্ধি বিচ্ছেদে মূল শব্দ বা ধাতু এবং প্রত্যয় আলাদা করতে হয়। assistant engineer sub question solution 2026 এর জন্য সন্ধির ব্যতিক্রমী ও কঠিন শব্দগুলো চর্চা করা প্রয়োজন। রাজ্ঞী, রাগি—এগুলো প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। সঠিক উত্তরটি হলো হসন্তযুক্ত ‘রাজ্’ এবং দীর্ঘ ঈ-কার যুক্ত ‘নী’।

১৮. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
ক) অফিস খ) ভবন গ) ফুল ঘ) কামরাঙা

সঠিক উত্তর: খ) ভবন

ব্যাখ্যা:
শব্দ ভাণ্ডার থেকে আসা এই প্রশ্নে তৎসম শব্দ শনাক্ত করতে বলা হয়েছে। ‘তৎসম’ মানে হলো ‘তার সমান’ বা সংস্কৃতের সমান। যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। এখানে ‘ভবন’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে হুবহু বাংলায় এসেছে, তাই এটি তৎসম শব্দ।

অন্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: ‘অফিস’ হলো ইংরেজি (বিদেশি) শব্দ। ‘ফুল’ এসেছে সংস্কৃত ‘পুষ্প’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে, তাই এটি তদ্ভব শব্দ। তৎসম শব্দ চেনার কিছু উপায় আছে, যেমন—’ষ’ এর ব্যবহার, ‘ঋ’ কারের ব্যবহার, অথবা যুক্তবর্ণের আধিক্য (যেমন—ভবন, নক্ষত্র, ধর্ম)। ভবন শব্দটি দেখলেই বোঝা যায় এটি একটি সাধু বা সংস্কৃত-ঘেঁষা শব্দ।

১৯. “অনুবাদ” শব্দে “অনু” উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক) পশ্চাৎ খ) সাদৃশ্য গ) গমন ঘ) সঙ্গে

সঠিক উত্তর: ক) পশ্চাৎ

ব্যাখ্যা:
উপসর্গ শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। ‘অনুবাদ’ শব্দটিতে ‘অনু’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘বাদ’ মানে বলা বা কথন। আর ‘অনুবাদ’ মানে হলো কোনো কিছু বলার পর সেটাকে পুনরায় বলা বা ভাষান্তর করা। অর্থাৎ মূলের ‘পিছনে’ বা ‘পরে’ এটি করা হয়। তাই ব্যাকরণবিদদের মতে, এখানে ‘অনু’ উপসর্গটি ‘পশ্চাৎ’ বা ‘পরে’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন—অনুগমন, অনুকরণ)।

যদিও অনেকে মনে করতে পারেন এটি ‘সাদৃশ্য’ বা ‘সদৃশ’ (যেমন—অনুরূপ), কিন্তু অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘পশ্চাৎ’ অর্থটিই প্রমিত ব্যাকরণ বইতে গ্রহণ করা হয়েছে। SAE question solution 2026 এর জন্য উপসর্গের বিভিন্ন অর্থ প্রয়োগ জানাটা জরুরি। যেমন—’অনুশোচনা’য় অনু মানে পশ্চাৎ, আবার ‘অনুদিন’ এ অনু মানে ব্যাপ্তি। শব্দের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অর্থ পাল্টে যায়।

২০. “কানে কানে যে কথা” এর সমাসবদ্ধ পদটি কোনটি?
ক) কানাকানি খ) কানকথা গ) কানাকানি (অপশনে সম্ভবত বানান ভিন্নতা বা ক ও গ একই) ঘ) সোগলপুরী

সঠিক উত্তর: ক) কানাকানি

ব্যাখ্যা:
এটি বহুব্রীহি সমাসের একটি বিশেষ প্রকার, যাকে বলা হয় ‘ব্যতিহার বহুব্রীহি’। যখন একই পদের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বা একে অপরের সাথে কাজ করা বোঝায়, তখন তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। “কানে কানে যে কথা = কানাকানি”। এখানে কানাকানি বলতে একে অপরের কানে কথা বলা বোঝায়।

একইভাবে “হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি”, “লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই = লাঠালাঠি”—এগুলো সবই ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ।  মনে রাখার টেকনিক হলো, শব্দের শেষে ‘আ’ এবং ‘ই’ প্রত্যয় থাকবে (যেমন—কানা+কানি) এবং এটি দ্বারা পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝাবে। অপশন দেখে সহজেই এটি নির্ণয় করা যায়।

সাধারণ বিজ্ঞান

২৪. সরু ও সূক্ষ্ম ছিদ্র বিশিষ্ট একটি কাঁচের নলকে পানিতে ডুবালে দেখা যায় যে পানি নলের ভিতরে কিছুটা উপরে উঠেছে এবং পানির উপরিভাগ অবতল হয়েছে। এর কারণ কী?
ক) সংকুচিততা খ) সান্দ্রতা গ) কৈশিকতা ঘ) পৃষ্ঠটান

সঠিক উত্তর: গ) কৈশিকতা

ব্যাখ্যা:
এই ঘটনাটি পদার্থবিজ্ঞানের একটি পরিচিত ঘটনা যা ‘কৈশিকতা’ বা ‘Capillarity’ নামে পরিচিত। যখন খুব সরু ছিদ্রযুক্ত কোনো নল তরলে ডুবানো হয়, তখন তরল নলের ভেতরে সাধারণ উচ্চতার চেয়ে উপরে উঠে আসে (বা নিচে নেমে যায়)। এই ঘটনাকেই কৈশিকতা বলে। পানি এবং কাঁচের ক্ষেত্রে আসঞ্জন বল (Adhesion) সংশক্তি বলের (Cohesion) চেয়ে বেশি হওয়ায় পানি নলের গায়ে লেগে উপরে উঠে যায় এবং মেনিস্কাস অবতল (Concave) হয়।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে “এর কারণ কী?”। যদিও এই ঘটনার পেছনের মূল বলটি হলো ‘পৃষ্ঠটান’ (Surface Tension), কিন্তু পরীক্ষাতে সাধারণত এই দৃশ্যমান ঘটনা বা ফেনোমেননটির নাম জানতে চাওয়া হয়, যা হলো কৈশিকতা। অপশনে যদি কৈশিকতা না থাকত, তবে পৃষ্ঠটান উত্তর হতো।

২৬. একটি চ্যানেল প্রবাহের রেনল্ড নাম্বার ৫০৫০ হলে প্রবাহের ধরন কি রকম?
ক) ল্যামিনার খ) টারবুলেন্ট গ) সাব ল্যামিনার ঘ) না টারবুলেন্ট

সঠিক উত্তর: খ) টারবুলেন্ট

ব্যাখ্যা:
রেনল্ডস নাম্বার (Reynolds Number – Re) প্রবাহের প্রকৃতি নির্ধারণ করে। ওপেন চ্যানেল ফ্লো-এর ক্ষেত্রে:

  • Re < ৫০০ হলে প্রবাহ ল্যামিনার (Laminar)।
  • ৫০০ < Re < ২০০০ (কোনো কোনো মতে ১০০০) হলে প্রবাহ ট্রানজিশনাল (Transitional)।
  • Re > ২০০০ হলে প্রবাহ টারবুলেন্ট (Turbulent)।

আর পাইপ ফ্লো-এর ক্ষেত্রে Re > ৪০০০ হলে টারবুলেন্ট হয়। প্রশ্নে চ্যানেল প্রবাহের কথা বলা হয়েছে এবং মান দেওয়া আছে ৫০৫০। যেহেতু ৫০৫০ সংখ্যাটি ২০০০ (এমনকি পাইপের ৪০০০) এর চেয়েও বড়, তাই এই প্রবাহটি নিঃসন্দেহে টারবুলেন্ট বা বিশৃঙ্খল প্রবাহ। ল্যামিনার মানে শান্ত প্রবাহ, আর টারবুলেন্ট মানে এলোমেলো বা বিক্ষুদ্ধ প্রবাহ। এখানে উত্তর হবে টারবুলেন্ট।

২৭. ‘নচ’ (Notch) দিয়ে কী পরিমাপ করা হয়?
ক) পানির নির্গমন এর মান খ) পানির গভীরতা গ) পানির গতিবেগ ঘ) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক) পানির নির্গমন এর মান

ব্যাখ্যা:
প্রশ্নটি কিছুটা অস্পষ্ট দেখালেও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নিশ্চিতভাবে ‘নচ’ (Notch) সম্পর্কিত। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ হাইড্রলিক্সে নচ এবং উইয়ার (Weir) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিভাইস। এগুলো সাধারণত কোনো ছোট চ্যানেল বা ট্যাংকের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির পরিমাণ বা ডিসচার্জ (Discharge) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
নচ হলো মূলত একটি ছিদ্র বা কাটা অংশ যার মাধ্যমে পানি প্রবাহিত হয়। এর প্রধান কাজই হলো প্রবাহের হার বা নির্গমন (Rate of flow) মাপা।
অপশন ‘ক’-তে বলা হয়েছে “পানির নির্গমন এর মান”, যা ডিসচার্জের বাংলা প্রতিশব্দ। গভীরতা মাপা হয় স্কেল বা সাউন্ডিং রড দিয়ে, আর গতিবেগ মাপা হয় কারেন্ট মিটার বা পিটট টিউব দিয়ে। সুতরাং নচ-এর কাজ নির্গমন মাপা। assistant engineer sub question solution 2026 এর সিলেবাসে ফ্লো মেজারমেন্ট ডিভাইস খুব গুরুত্বপূর্ণ টপিক।

 

৪৩. একজন ইঞ্জিনিয়ার ল্যাবরেটরিতে একটি স্টিলের পরীক্ষন দণ্ডে টেনশন টেস্ট (টান পরীক্ষা) করছিলেন। পরীক্ষণের শুরুতে দণ্ডটির চিহ্নিত গেজ দৈর্ঘ্য ছিল ৫০ মি.মি.। টান প্রয়োগ করার পর গেজ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে ৫২.৫ মি.মি. হয়। উক্ত অবস্থায় দণ্ডটিতে উৎপন্ন লম্বীয় বিকৃতির মান (মি.মি./মি.মি.) কত হবে?
ক) ০.০৫০০ খ) ০.০০৯৫ গ) ০.৪৯২৫ ঘ) ১.৫০০০

সঠিক উত্তর: ক) ০.০৫০০

ব্যাখ্যা:
বিকৃতি বা Strain (ε) হলো দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন এবং আদি দৈর্ঘ্যের অনুপাত।
আদি দৈর্ঘ্য (L) = ৫০ মি.মি.।
শেষ দৈর্ঘ্য = ৫২.৫ মি.মি.।
দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন (ΔL) = ৫২.৫ – ৫০ = ২.৫ মি.মি.।
বিকৃতি ε = ΔL / L = ২.৫ / ৫০ = ০.০৫।
যেহেতু উপরে এবং নিচে একই একক, তাই বিকৃতির কোনো একক নেই। উত্তর ০.০৫০০।

 

৪৫. কোন অবস্থায় একটি স্ল্যাব সাধারণত একমুখী স্ল্যাব হিসেবে আচরণ করে?
ক) চারদিকে বিম দ্বারা আবদ্ধ হলে খ) দুই দিকেই সমান স্প্যান হলে গ) যখন লম্বা স্প্যান ছোট স্প্যানের দ্বিগুণের বেশি হয় ঘ) স্ল্যাব খুব পুরু হলে

সঠিক উত্তর: গ) যখন লম্বা স্প্যান ছোট স্প্যানের দ্বিগুণের বেশি হয়

ব্যাখ্যা:
রিইনফোর্সড কনক্রিট স্ল্যাব ডিজাইনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি স্ল্যাবের লম্বা দৈর্ঘ্য (Ly) এবং খাটো দৈর্ঘ্যের (Lx) অনুপাত ২ এর চেয়ে বেশি হয় (Ly/Lx > 2), তবে লোড মূলত খাটো স্প্যান দিয়েই বাহিত হয়। এই ধরনের স্ল্যাবকে একমুখী বা One-way Slab বলে। আর অনুপাত ২ বা তার কম হলে তা দ্বিমুখী বা Two-way Slab হিসেবে আচরণ করে। এটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর খুব বেসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

৪৬. একমুখী স্ল্যাবে প্রধান রিইনফোর্সমেন্ট সাধারণত কোন দিকে দেওয়া হয়?
ক) প্রধান অক্ষের ঠিক বরাবর খ) স্ল্যাবের স্বল্প স্প্যান বরাবর গ) প্রধান রিইনফোর্সমেন্টের লম্বালম্বি দিকে ঘ) স্ল্যাবের কর্ণার বরাবর তির্যকভাবে

সঠিক উত্তর: খ) স্ল্যাবের স্বল্প স্প্যান বরাবর

ব্যাখ্যা:
একমুখী স্ল্যাবে বেন্ডিং মোমেন্ট প্রধানত ছোট বা স্বল্প স্প্যান (Short Span) বরাবর কাজ করে। তাই এই বেন্ডিং প্রতিরোধ করার জন্য প্রধান রড বা Main Reinforcement সবসময় ছোট স্প্যান বরাবর বিছানো হয়। লম্বা স্প্যান বরাবর দেওয়া হয় ডিস্ট্রিবিউশন বার বা টেম্পারেচার বার, যা মূলত ফাটল রোধ ও রড ধরে রাখার কাজ করে।

৪৭. দ্বিমুখী স্ল্যাবে কর্নার রিইনফোর্সমেন্ট সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
ক) শুধু নিচে পুষ্টে দেওয়া হয় খ) শুধু নেগেটিভ মোমেন্টের জন্য দেওয়া হয় গ) উপর ও নিচ উভয় পৃষ্ঠে দেওয়া হয় ঘ) প্রধান রডের অর্ধেক পরিমাণে দেওয়া হয়

সঠিক উত্তর: গ) উপর ও নিচ উভয় পৃষ্ঠে দেওয়া হয়

ব্যাখ্যা:
দ্বিমুখী বা Two-way Slab-এর কোণায় (Corner) টর্শন বা মোচড় জনিত মোমেন্ট সৃষ্টি হয়, যার ফলে কোণাগুলো উপরে উঠে আসতে চায়। এই টর্শন প্রতিরোধ করার জন্য স্ল্যাবের কোণায় উপরে এবং নিচে উভয় লেয়ারে (Top and Bottom mesh) অতিরিক্ত রড বা কর্নার রিইনফোর্সমেন্ট প্রদান করা হয়। এটি স্ল্যাবকে ফাটল থেকে রক্ষা করে।

 

 

৫২. ট্রিপ ডিস্ট্রিবিউশন (Trip Distribution) ধাপের প্রধান আউটপুট হলো –
ক) লিংকে ভলিউম ম্যাপ খ) ট্রিপের বিন্যাস (O-D Matrix) গ) স্পিড-ফ্লো চার্ট ঘ) পার্কিং চার্ট

সঠিক উত্তর: খ) ট্রিপের বিন্যাস (O-D Matrix)

ব্যাখ্যা:
ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিং-এর চারটি ধাপের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো ট্রিপ ডিস্ট্রিবিউশন। এই ধাপের মূল কাজ হলো এক জোন থেকে অন্য জোনে কতগুলো ট্রিপ হবে তা নির্ধারণ করা। এর চূড়ান্ত ফলাফল বা আউটপুটকে বলা হয় O-D Matrix (Origin-Destination Matrix) বা ট্রিপ টেবিল। অপশন ‘খ’ তে এটিই বলা হয়েছে।

৫৩. মোড চয়েস (Mode Choice) কোন কোন বিষয়ে প্রভাবিত হয়?
ক) শুধুমাত্র আয় খ) শুধুমাত্র ভ্রমণ সময় গ) ট্রিপ, যাত্রী ও সিস্টেম সংক্রান্ত উপাদান ঘ) শুধুমাত্র দূরত্ব

সঠিক উত্তর: গ) ট্রিপ, যাত্রী ও সিস্টেম সংক্রান্ত উপাদান

ব্যাখ্যা:
একজন যাত্রী বাস, ট্রেন নাকি নিজের গাড়িতে যাবে (Mode Choice)—তা কেবল একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না। এটি তিনটি প্রধান ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে:
১. যাত্রীর বৈশিষ্ট্য (আয়, বয়স, গাড়ির মালিকানা)।
২. ট্রিপের বৈশিষ্ট্য (দূরত্ব, উদ্দেশ্য)।
৩. ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য (ভাড়া, সময়, আরাম)।
তাই অপশন ‘গ’ হলো সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং সঠিক উত্তর।

৫৪ থেকে ৭৯ পর্যন্ত প্রশ্নের বিস্তারিত সমাধান নিচে দেওয়া হলো। এই অংশে মূলত ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রশ্নগুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

৫৪. নগর সড়ক শ্রেণিবিন্যাসে স্থানীয় সড়ক (Local Road) মূলত কোন সেবা প্রদান করে?
ক) বাইপাস চলাচল খ) বিভাগীয় সংযোগ গ) ডিস্ট্রিবিউটের কার্য ঘ) প্রবেশাধিকার (Access)

সঠিক উত্তর: ঘ) প্রবেশাধিকার (Access)

ব্যাখ্যা:
সড়কের শ্রেণিবিন্যাস বা Hierarchy অনুযায়ী সড়ককে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: আর্টারিয়াল, কালেক্টর এবং লোকাল।
১. আর্টারিয়াল সড়ক (Arterial): সর্বোচ্চ গতি বা মবিলিটি প্রদান করে, কিন্তু প্রবেশাধিকার সীমিত।
২. কালেক্টর সড়ক (Collector): মবিলিটি এবং অ্যাক্সেসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩. স্থানীয় সড়ক (Local Road): এর প্রধান কাজই হলো বাড়িঘর, দোকানপাট বা সম্পত্তির সাথে সরাসরি সংযোগ বা ‘Access’ প্রদান করা। এখানে গাড়ির গতি সবচেয়ে কম থাকে।
মনে রাখবেন: লোকাল রোড = এক্সেস, আর্টারিয়াল = গতি।

৫৫. কোন সড়ক শ্রেণি সর্বোচ্চ চলাচল সুবিধা (Mobility) প্রদান করে কিন্তু সর্বনিম্ন ভূমি প্রবেশাধিকার দেয়?
ক) স্থানীয় সড়ক খ) কালেক্টর গ) আর্টারিয়াল ঘ) মহাসড়ক

সঠিক উত্তর: গ) আর্টারিয়াল

ব্যাখ্যা:
পূর্বের প্রশ্নের ব্যাখ্যার সূত্র ধরেই এটি সমাধান করা যায়। আর্বান বা নগর এলাকায় ‘আর্টারিয়াল’ সড়কগুলো দূরপাল্লার এবং দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য ডিজাইন করা হয়। এখানে মবিলিটি বা সচলতা সর্বোচ্চ থাকে, কিন্তু চাইলেই রাস্তার পাশ থেকে গাড়ি প্রবেশ করা যায় না (সর্বনিম্ন অ্যাক্সেস)।
যদিও অপশনে ‘মহাসড়ক’ আছে, কিন্তু নগর সড়কের শ্রেণিবিন্যাসে (Urban Road Classification) টেকনিক্যাল টার্ম হিসেবে ‘Arterial’ শব্দটিই ব্যবহৃত হয়। ফ্রি-ওয়ে বা এক্সপ্রেসওয়ে থাকলে সেটি উত্তর হতো, কিন্তু প্রদত্ত অপশনে আর্টারিয়ালই সঠিক।

৫৬. বিটুমিনাস পেভমেন্ট মিক্স (Bituminous paving mixture)-এর স্থায়িত্ব (Stability) বলতে বোঝায়—
ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতিরোধ ক্ষমতা খ) আরোপিত লোডজনিত বিকৃতি প্রতিরোধ ক্ষমতা গ) পানি শোষণ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঘ) স্কিড প্রতিরোধ ক্ষমতা

সঠিক উত্তর: খ) আরোপিত লোডজনিত বিকৃতি প্রতিরোধ ক্ষমতা

ব্যাখ্যা:
বিটুমিনাস মিক্স ডিজাইনে (যেমন মার্শাল মেথড) ‘স্ট্যাবিলিটি’ বা স্থায়িত্ব বলতে বোঝায় ট্রাফিক লোডের কারণে পেভমেন্টের আকার পরিবর্তন বা বিকৃতি (Deformation) বাধা দেওয়ার ক্ষমতা। যদি মিক্সের স্ট্যাবিলিটি কম হয়, তবে চাকার চাপে রাস্তা দেবে যাবে বা উঁচু-নিচু হয়ে যাবে (Rutting)।

৫৭. এগ্রিগেট ইমপ্যাক্ট ভ্যালু (Aggregate Impact Value) দ্বারা নির্ণয় করা হয় –
ক) কঠিনতা খ) ঘাত সহনশীলতা গ) আকৃতি ঘ) ছিদ্রতা

সঠিক উত্তর: খ) ঘাত সহনশীলতা (Toughness)

ব্যাখ্যা:
পাথর বা এগ্রিগেটের গুণাগুণ পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন টেস্ট করা হয়।

  • ইমপ্যাক্ট ভ্যালু টেস্ট: এটি দ্বারা পাথরের হঠাৎ আঘাত বা Shock সহ্য করার ক্ষমতা বা Toughness মাপা হয়।
  • অ্যাব্রেশন টেস্ট: এটি দ্বারা কঠিনতা বা Hardness মাপা হয়।
  • ক্রাসিং ভ্যালু টেস্ট: এটি দ্বারা চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বা Strength মাপা হয়।
    প্রশ্নে ইমপ্যাক্ট ভ্যালু চেয়েছে, তাই এটি ‘ঘাত সহনশীলতা’ বা টাফনেস নির্দেশ করে। 

৫৮. ফুটিং (footing) ক্ষেত্রফল নির্ধারণ করা হয় কোন লোডের ভিত্তিতে?
ক) ত্বরিত সব লোড খ) আংশিক সব লোড গ) শুধুমাত্র স্থায়ী লোড ঘ) শুধুমাত্র ভূমিকম্পজনিত লোড (সঠিক অপশন ছবিতে স্পষ্ট নয়, তবে প্রচলিত উত্তর সার্ভিস লোড)

সঠিক উত্তর: সার্ভিস লোড বা আনফ্যাক্টরড লোড (অপশন ক বা খ তে যদি ‘মোট সার্ভিস লোড’ জাতীয় কিছু থাকে)

ব্যাখ্যা:
স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে ফুটিং-এর এরিয়া বের করার সময় মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটির সাথে তুলনা করা হয়। মাটির অ্যালাওয়েবল বিয়ারিং ক্যাপাসিটি সাধারণত সার্ভিস লোড (Service Load) বা ওয়ার্কিং লোডের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া থাকে। তাই ফুটিং সাইজ করার সময় লোডকে কোনো ফ্যাক্টর (যেমন ১.২ বা ১.৬) দিয়ে গুণ করা হয় না। ফ্যাক্টরড লোড ব্যবহার করা হয় ফুটিং-এর পুরুত্ব এবং রড ডিজাইনে, কিন্তু তলার ক্ষেত্রফল বের করতে সার্ভিস লোড ব্যবহৃত হয়।

৫৯. নিচের কোনটি ট্রাস সদস্য সম্পর্কে ভুল ধারণা?
ক) ট্রাস সদস্য কেবল অক্ষীয় বল বহন করে খ) ট্রাস সদস্যে বেন্ডিং মোমেন্ট থাকে গ) ট্রাস সদস্যে টেনশন বা কমপ্রেশন থাকে ঘ) সকল জয়েন্ট পিন জয়েন্ট ধরা হয়

সঠিক উত্তর: খ) ট্রাস সদস্যে বেন্ডিং মোমেন্ট থাকে

ব্যাখ্যা:
ট্রাস (Truss) এর মৌলিক ধারণাই হলো এর মেম্বারগুলো শুধুমাত্র অ্যাক্সিয়াল ফোর্স (টান বা চাপ) বহন করবে। ট্রাসের জয়েন্টগুলোকে পিন জয়েন্ট বা ফ্রিকশনলেস ধরা হয়, ফলে মেম্বারগুলোতে কোনো বেন্ডিং মোমেন্ট উৎপন্ন হয় না। তাই অপশন ‘খ’ তে বলা “বেন্ডিং মোমেন্ট থাকে” কথাটি ট্রাসের সংজ্ঞার পরিপন্থী এবং এটিই ভুল ধারণা।

৬০. ইল্ড (Yield) সাইন সাধারণত কোথায় স্থাপন করা হয়?
ক) এক্সপ্রেসওয়ে প্রধান লেনে খ) গৌণ (Minor) সড়কের সংযোগমুখে গ) প্রধান সড়কের সংযোগমুখে ঘ) সিগন্যালযুক্ত মোড়ে

সঠিক উত্তর: খ) গৌণ (Minor) সড়কের সংযোগমুখে

ব্যাখ্যা:
ইল্ড সাইন (উল্টানো ত্রিভুজাকৃতি) এর মানে হলো “অন্যকে আগে যেতে দিন”। যখন একটি ছোট বা কম গুরুত্বপূর্ণ (Minor) রাস্তা একটি বড় বা প্রধান (Major) রাস্তার সাথে মিলিত হয়, তখন মাইনর রোডের মুখে এই সাইন দেওয়া হয়। যাতে ছোট রাস্তা থেকে আসা গাড়িগুলো গতি কমিয়ে প্রধান সড়কের গাড়িকে আগে যাওয়ার সুযোগ দেয়।

৬১. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য হলো—
ক) যানজট বৃদ্ধি করা খ) নিরাপত্তা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করা গ) সড়কের দৈর্ঘ্য কমানো ঘ) যানবাহনের প্রবাহ কমানো

সঠিক উত্তর: খ) নিরাপত্তা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করা

ব্যাখ্যা:
ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যবস্থাপনার প্রধান লক্ষ্যই হলো মানুষ ও মালামালকে নিরাপদে (Safety), দ্রুত বা দক্ষতার সাথে (Efficiency/Mobility) এবং কম খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো। যানজট বা দুর্ঘটনা কমানো এর অংশ। তাই নিরাপত্তা ও গতিশীলতা বৃদ্ধিই সঠিক উত্তর।

৬২. সুপার এলিভেশন (Super Elevation) প্রদান করা হয়—
ক) ড্রেনেজ উন্নত করার জন্য খ) কেন্দ্রাতিগ বল প্রতিরোধ করার জন্য গ) পেভমেন্টের পুরুত্ব কমানোর জন্য ঘ) শুধু গতি বাড়ানোর জন্য

সঠিক উত্তর: খ) কেন্দ্রাতিগ বল প্রতিরোধ করার জন্য

ব্যাখ্যা:
সড়কের বাঁকে বা Curve-এ গাড়ি যখন মোড় নেয়, তখন বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার একটি প্রবণতা কাজ করে, একে কেন্দ্রাতিগ বল বা Centrifugal Force বলে। এই বলকে কাটানোর জন্য রাস্তার বাইরের পাশ ভেতরের পাশের চেয়ে কিছুটা উঁচু করে দেওয়া হয়। একেই সুপার এলিভেশন বলে। এর ফলে গাড়ি না উল্টে নিরাপদে মোড় নিতে পারে।

৬৩. সিমেন্ট কংক্রিট সড়ক প্রধানত কীভাবে লোড বিতরণ করে?
ক) দানা থেকে দানা সংস্পর্শে খ) স্ল্যাব অ্যাকশনের মাধ্যমে গ) আর্চ অ্যাকশনের মাধ্যমে ঘ) ঘর্ষণের মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: খ) স্ল্যাব অ্যাকশনের মাধ্যমে

ব্যাখ্যা:
সড়ক বা পেভমেন্ট দুই ধরনের: ফ্লেক্সিবল (বিটুমিনাস) এবং রিজিড (কংক্রিট)।

  • ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট লোড ছড়ায় ‘Grain to grain transfer’ পদ্ধতিতে।
  • রিজিড পেভমেন্ট বা সিমেন্ট কংক্রিট সড়ক লোড ছড়ায় ‘Slab action’ বা প্লেট অ্যাকশনের মাধ্যমে। এটি একটি শক্ত স্ল্যাব হিসেবে কাজ করে লোডকে বড় এলাকায় ছড়িয়ে দেয়।

৬৪. রেলওয়ে গেজ (Railway Gauge) বলতে বোঝায় –
ক) দুটি রেলের মধ্যবর্তী দূরত্ব খ) রেলের উচ্চতা গ) স্লিপারের দৈর্ঘ্য ঘ) প্ল্যাটফর্মের প্রস্থ

সঠিক উত্তর: ক) দুটি রেলের মধ্যবর্তী দূরত্ব

ব্যাখ্যা:
রেললাইনের সমান্তরাল দুটি পাতের (Rails) ভেতরের দিকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম লম্ব দূরত্বকে রেলওয়ে গেজ বলে। বাংলাদেশে ব্রড গেজ (১.৬৭৬ মি), মিটার গেজ (১.০০০ মি) এবং ডুয়েল গেজ প্রচলিত আছে। 

৬৫. চেক রেল (Check Rail) প্রদান করা হয়—
ক) গতি বাড়ানোর জন্য খ) বাঁকে লাইনচ্যুতি প্রতিরোধের জন্য গ) শব্দ কমানোর জন্য ঘ) ড্রেনেজ উন্নত করার জন্য

সঠিক উত্তর: খ) বাঁকে লাইনচ্যুতি প্রতিরোধের জন্য

ব্যাখ্যা:
রেললাইনের তীক্ষ্ণ বাঁকে বা কার্ভে (Curve) প্রধান রেলের ভেতরের দিকে সমান্তরালভাবে একটি অতিরিক্ত রেল বসানো হয়, একে চেক রেল বা গার্ড রেল বলে। এর কাজ হলো চাকার ফ্ল্যাঞ্জকে গাইড করা যাতে গাড়ি লাইনচ্যুত (Derail) না হয় এবং বাইরের রেলে অতিরিক্ত ঘর্ষণ রোধ করা।

৬৬. সমন্বিত ভাড়া ব্যবস্থা (Fare Integration) বলতে বোঝায় –
ক) বিনামূল্যে পরিবহন খ) প্রতিটি মোডের জন্য আলাদা ভাড়া গ) একাধিক গণপরিবহনের জন্য একটি টিকিট ঘ) উচ্চ ভাড়া ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: গ) একাধিক গণপরিবহনের জন্য একটি টিকিট

ব্যাখ্যা:
ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম বা সমন্বিত ভাড়া ব্যবস্থা হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে যাত্রীরা একটি মাত্র কার্ড বা টিকিট ব্যবহার করে বাস, ট্রেন, মেট্রো ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারে (যেমন লন্ডনের ওয়েস্টার কার্ড বা ঢাকার র‍্যাপিড পাস)। এটি যাত্রীদের ভোগান্তি কমায় এবং যাতায়াত সহজ করে।

৬৭. রোড সেফটি অডিট (Road Safety Audit) করা হয় –
ক) নির্মাণ ব্যয় বাড়ানোর জন্য খ) সম্ভাব্য সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য গ) গতি সীমা কমানোর জন্য ঘ) সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য

সঠিক উত্তর: খ) সম্ভাব্য সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য

ব্যাখ্যা:
রোড সেফটি অডিট (RSA) হলো সড়কের পরিকল্পনা, ডিজাইন বা নির্মাণ পর্যায়ে অভিজ্ঞ দলের মাধ্যমে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন ত্রুটি বা ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই খুঁজে বের করা এবং সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া।

৬৮. পানির ঘোলাত্ব (Turbidity) সাধারণত কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
ক) mg/L খ) NTU গ) Pt-Co unit ঘ) pH unit

সঠিক উত্তর: খ) NTU

ব্যাখ্যা:
টার্বিডিটি বা ঘোলাত্ব মাপার আদর্শ একক হলো NTU (Nephelometric Turbidity Unit)। আগে JTU (Jackson Turbidity Unit) ব্যবহার করা হতো, কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল মিটারে NTU ব্যবহৃত হয়। কালার মাপা হয় Pt-Co ইউনিটে।

৬৯. পানীয় জলের জন্য গ্রহণযোগ্য pH মান সাধারণত—
ক) ৫.০ – ৬.০ খ) ৬.৫ – ৮.৫ গ) ৮.৫ – ১০.০ ঘ) ৪.৫ – ৫.৫

সঠিক উত্তর: খ) ৬.৫ – ৮.৫

ব্যাখ্যা:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা (ECR ’97) অনুযায়ী পানীয় জলের আদর্শ pH সীমা হলো ৬.৫ থেকে ৮.৫। এর কম হলে পানি এসিডিক এবং বেশি হলে ক্ষারীয় হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

৭০. পানির Total Solids (TS) এর সঠিক সম্পর্ক কোনটি?
ক) TS = TDS – TSS খ) TS = TDS + TSS গ) TS = TSS – TDS ঘ) TS = TDS × TSS

সঠিক উত্তর: খ) TS = TDS + TSS

ব্যাখ্যা:
পানির মোট কঠিন পদার্থ বা Total Solids (TS) মূলত দুই ভাগে থাকে:
১. দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (Total Dissolved Solids – TDS)
২. ভাসমান কঠিন পদার্থ (Total Suspended Solids – TSS)
সুতরাং, মোট সলিডস = দ্রবীভূত + ভাসমান (TS = TDS + TSS)।

৭১. পানিতে রঙ (Color) পরিমাপের একক হলো—
ক) mg/L খ) NTU গ) Pt-Co unit ঘ) pH unit

সঠিক উত্তর: গ) Pt-Co unit

ব্যাখ্যা:
পানির রঙ পরিমাপ করা হয় প্লাটিনাম-কোবাল্ট (Platinum-Cobalt) স্কেলে। সংক্ষেপে একে Pt-Co unit বা Hazen unit বলা হয়। ১ ইউনিট কালার মানে হলো ১ লিটার পানিতে ১ মিলিগ্রাম প্লাটিনাম (ক্লোরোপ্লাটিনেট আয়ন হিসেবে) থাকলে যে রঙ হয়।

৭২. এক NTU (Nephelometric Turbidity Units) টার্বিডিটির সমতুল্য হলো—
ক) ১ মিলিগ্রাম সিলিকা/লিটার খ) ১ মিলিগ্রাম ফরমাজিন/লিটার গ) ১০ মিলিগ্রাম/লিটার ঘ) ০.১ মিলিগ্রাম/লিটার

সঠিক উত্তর: ক) ১ মিলিগ্রাম সিলিকা/লিটার (ঐতিহাসিকভাবে) বা খ) ১ মিলিগ্রাম ফরমাজিন/লিটার (আধুনিক)

ব্যাখ্যা:
প্রচলিত বা সনাতন সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ ইউনিট টার্বিডিটি (যা আগে সিলিকা স্কেলে মাপা হতো) হলো ১ লিটার পানিতে ১ মিলিগ্রাম সিলিকা (SiO2) থাকলে যে ঘোলাত্ব তৈরি হয়। তবে আধুনিক NTU মিটারে ফরমাজিন পলিমার ব্যবহার করা হয় স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে। পরীক্ষার অপশনে সাধারণত ‘সিলিকা’ থাকে যা বেসিক সংজ্ঞা হিসেবে সঠিক ধরা হয়। তবে ফরমাজিন থাকলে সেটিও টেকনিক্যালি সঠিক। এখানে ‘ক’ বেস্ট অ্যানসার হিসেবে ধরা যেতে পারে পুরনো বইয়ের রেফারেন্সে।

৭৪. একটি পানির নমুনায় TDS = ৯০০ মিলিগ্রাম/লিটার এবং TSS = ৩০০ মিলিগ্রাম/লিটার। Total Solids (TS) কত মিলিগ্রাম/লিটার?
ক) ৬০০ খ) ৯০০ গ) ১২০০ ঘ) ১০২০

সঠিক উত্তর: গ) ১২০০

ব্যাখ্যা:
আমরা আগেই জেনেছি, TS = TDS + TSS।
এখানে TDS = ৯০০ এবং TSS = ৩০০।
সুতরাং, TS = ৯০০ + ৩০০ = ১২০০ mg/L।
খুবই সহজ যোগ অংক, কিন্তু সূত্র না জানলে ভুল হতে পারে।

৭৫. একটি শহরে দৈনিক পানি সরবরাহ ১২,০০০ m³ এবং পানির সরবরাহ লাইনে অপচয় (wastage) ১৫%। বাস্তবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পানির পরিমাণ কত?
ক) ৯০০০ m³ খ) ১০২০০ m³ গ) ১০৮০০ m³ ঘ) ১২০০০ m³

সঠিক উত্তর: খ) ১০২০০ m³

ব্যাখ্যা:
মোট সরবরাহ = ১২,০০০ ঘনমিটার।
অপচয় = ১৫%।
তাহলে পৌঁছাবে বাকি (১০০ – ১৫) = ৮৫% পানি।
প্রাপ্য পানি = ১২,০০০ এর ৮৫%
= ১২,০০০ × ০.৮৫
= ১০,২০০ ঘনমিটার।
সহজ ঐকিক নিয়ম বা শতাংশের অংক। 

৭৬. পানিতে নাইট্রেট দূষণ বেশি হলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে—
ক) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ খ) শিশু গ) গর্ভবতী নারী ঘ) বৃদ্ধ

সঠিক উত্তর: খ) শিশু

ব্যাখ্যা:
পানিতে অতিরিক্ত নাইট্রেট (Nitrate) থাকলে শিশুদের (বিশেষ করে ৬ মাসের কম বয়সী) এক ধরনের রোগ হয় যার নাম ‘মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া’ (Methemoglobinemia) বা ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’ (Blue Baby Syndrome)। এতে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায় এবং শিশুর শরীর নীল হয়ে যায়। তাই নাইট্রেট দূষণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

৭৭. একটি নদীতে পচনশীল জৈব বর্জ্য বেশি হলে কোনটি বৃদ্ধি পায়?
ক) DO খ) BOD গ) pH ঘ) তাপমাত্রা

সঠিক উত্তর: খ) BOD

ব্যাখ্যা:
পচনশীল জৈব বর্জ্য (Biodegradable organic matter) পানিতে মিশলে ব্যাকটেরিয়া সেগুলো পচাতে শুরু করে এবং পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) গ্রহণ করে। জৈব বর্জ্য যত বেশি হবে, ব্যাকটেরিয়ার অক্সিজেনের চাহিদাও তত বাড়বে। এই অক্সিজেনের চাহিদাকেই বলা হয় BOD (Biochemical Oxygen Demand)। সুতরাং বর্জ্য বাড়লে BOD বৃদ্ধি পায় এবং DO হ্রাস পায়।

৭৮. পানির COD সর্বদা BOD থেকে বেশি হয় কারণ—
ক) সব জৈব পদার্থ পচনশীল নয় খ) COD শুধু ব্যাকটেরিয়া নির্ভর গ) BOD বেশি নির্ভুল ঘ) DO কম থাকে

সঠিক উত্তর: ক) সব জৈব পদার্থ পচনশীল নয়

ব্যাখ্যা:
BOD পরিমাপ করে শুধুমাত্র সেইসব জৈব পদার্থ যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচনশীল (Biodegradable)।
কিন্তু COD (Chemical Oxygen Demand) পরিমাপ করে পচনশীল এবং অপচনশীল (Non-biodegradable) উভয় প্রকার জৈব পদার্থকে রাসায়নিকভাবে জারিত করতে কতটুকু অক্সিজেন লাগে।
যেহেতু মোট জৈব পদার্থ (পচনশীল + অপচনশীল) > শুধু পচনশীল জৈব পদার্থ, তাই সর্বদা COD এর মান BOD এর চেয়ে বেশি হয়।

৭৯. একটি পানির নমুনার BOD বেশি, কিন্তু BOD এর চেয়ে COD খুব বেশি নয়। এটি নির্দেশ করে—
ক) শিল্প বর্জ্য খ) পচনশীল জৈব বর্জ্যের প্রাধান্য গ) অজৈব বর্জ্য ঘ) অম্লীয় দূষণ

সঠিক উত্তর: খ) পচনশীল জৈব বর্জ্যের প্রাধান্য

ব্যাখ্যা:
BOD এবং COD এর পার্থক্য মূলত অপচনশীল বা নন-বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থের পরিমাণ নির্দেশ করে। যদি BOD এর মান অনেক বেশি হয় এবং তা COD এর খুব কাছাকাছি হয় (অর্থাৎ পার্থক্য কম), তার মানে হলো ওই পানিতে উপস্থিত প্রায় সব জৈব পদার্থই পচনশীল। সেখানে অপচনশীল বা শিল্পজাত জটিল রাসায়নিক খুব কম আছে। এটি সাধারণত মিউনিসিপ্যাল সুয়ারেজ বা গৃহস্থালি বর্জ্যের বৈশিষ্ট্য।

৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত প্রশ্নের বিস্তারিত সমাধান নিচে দেওয়া হলো। এই অংশে পরিবেশ প্রকৌশল এবং জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সয়েল মেকানিক্স) এর প্রশ্নগুলো রয়েছে।

৮০. একটি নদীতে জৈব দূষণ বেশি হলে মাছ মারা যাওয়ার প্রধান কারণ—
ক) pH পরিবর্তন খ) DO শূন্যের দিকে নেমে যাওয়া গ) তাপমাত্রা কমে যাওয়া ঘ) লবণাক্ততা বৃদ্ধি

সঠিক উত্তর: খ) DO শূন্যের দিকে নেমে যাওয়া

ব্যাখ্যা:
জৈব বর্জ্য বা Organic Waste যখন নদীতে মেশে, তখন পানিতে থাকা অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া) সেই বর্জ্য পচানোর কাজে প্রচুর অক্সিজেন ব্যবহার করে। এর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (Dissolved Oxygen – DO) পরিমাণ দ্রুত কমে যায়। মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য এই অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল। যখন DO এর মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় (সাধারণত ৪ মি.গ্রা./লিটারের নিচে), তখন মাছ শ্বাসকষ্টে মারা যায়।

৮১. নদীর পানিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস বেশি হলে—
ক) ইউট্রিফিকেশন ঘটে খ) DO বৃদ্ধি পায় গ) পানির স্বচ্ছতা বাড়ে ঘ) দূষণ কমে

সঠিক উত্তর: ক) ইউট্রিফিকেশন ঘটে

ব্যাখ্যা:
নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস হলো উদ্ভিদের জন্য প্রধান পুষ্টি উপাদান (Nutrients)। সার বা ডিটারজেন্ট থেকে এই উপাদানগুলো যখন জলাশয়ে মেশে, তখন সেখানে শৈবাল বা শ্যাওলার অতিবৃদ্ধি ঘটে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইউট্রিফিকেশন’ (Eutrophication)। এর ফলে পানির উপরিভাগ সবুজ স্তরে ঢেকে যায়, সূর্যের আলো নিচে পৌঁছাতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত পানির অক্সিজেন কমে গিয়ে জলজ পরিবেশ নষ্ট হয়। 

৮২. BNBC অনুযায়ী অগ্নিদাবান এর জন্য পানির চাহিদা নির্ধারণে প্রধান বিবেচ্য বিষয়—
ক) ভবনের রঙ খ) ভবনের ব্যবহার ও ঝুঁকির ধরন গ) ভবনের মালিকানা ঘ) এলাকার জনসংখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) এলাকার জনসংখ্যা

ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) বা ওয়াটার সাপ্লাই ইঞ্জিনিয়ারিং অনুযায়ী, কোনো শহরে অগ্নি নির্বাপনের জন্য কী পরিমাণ পানির প্রয়োজন (Fire Demand), তা মূলত ওই এলাকার মোট জনসংখ্যার (Population) ওপর ভিত্তি করে সূত্র দিয়ে বের করা হয়। একটি বহুল ব্যবহৃত সূত্র হলো কুচলিং ফর্মুলা: Q = 3182√P (যেখানে P জনসংখ্যা হাজারে)। যদিও নির্দিষ্ট ভবনের স্প্রিংকলার সিস্টেম ডিজাইনে ভবনের ধরন দেখা হয়, কিন্তু সামগ্রিক মিউনিসিপ্যাল সাপ্লাই বা ফায়ার ডিমান্ড ক্যালকুলেশনে ‘জনসংখ্যা’ই প্রধান প্যারামিটার।

৮৩. পিট ল্যাট্রিন (Pit latrine) ও নলকূপের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব হওয়া উচিত—
ক) ৫ মি. খ) ১০ মি. গ) ২৫ মি. ঘ) ৫০ মি.

সঠিক উত্তর: খ) ১০ মি. (বা ৩০ ফুট)

ব্যাখ্যা:
স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা বা পিট ল্যাট্রিন থেকে নির্গত মলমূত্র চুঁইয়ে মাটির নিচের পানির স্তরে মিশে যেতে পারে। নলকূপের পানি যেন এই দূষণ বা প্যাথোজেন দ্বারা আক্রান্ত না হয়, সেজন্য ল্যাট্রিন এবং নলকূপের মধ্যে একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ডিপিএইচই (DPHE) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ন্যূনতম নিরাপদ দূরত্ব হলো ১০ মিটার বা প্রায় ৩০ ফুট।

৮৪. কোনো মৃত্তিকা (soil) নমুনার ভয়েড রেশিও (void ratio) e = ০.৮০১ এই মৃত্তিকার পরোসিটি (porosity) n কত হবে?
ক) ০.৪৪ খ) ০.৫৫ গ) ০.৮০ ঘ) ০.৯০

সঠিক উত্তর: ক) ০.৪৪

ব্যাখ্যা:
সয়েল মেকানিক্সের বেসিক সম্পর্ক: n = e / (1 + e)
এখানে e = ০.৮০১
সুতরাং, n = ০.৮০১ / (১ + ০.৮০১)
= ০.৮০১ / ১.৮০১
≈ ০.৪৪৪৭ বা ০.৪৪
খুবই সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। 

৮৫. একটি মৃত্তিকা (soil) নমুনার আর্দ্রতা (moisture content) ২০% এবং বাল্ক ঘনত্ব ১.৮ গ্রাম/সেমি³। যদি মৃত্তিকার কঠিন কণার আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific gravity) ২.৬৫ হয়, তবে মৃত্তিকার শুষ্ক ঘনত্ব কত গ্রাম/সেমি³ হবে?
ক) ১.৫০ খ) ১.৬৮ গ) ১.৮৭ ঘ) ২.০০

সঠিক উত্তর: ক) ১.৫০

ব্যাখ্যা:
শুষ্ক ঘনত্ব (Dry Density), ρd = ρb / (1 + w)
এখানে, বাল্ক ঘনত্ব ρb = ১.৮ গ্রাম/সিসি
জলীয় অংশ বা ময়েশ্চার কন্টেন্ট w = ২০% = ০.২০
সুতরাং, ρd = ১.৮ / (১ + ০.২০) = ১.৮ / ১.২ = ১.৫ গ্রাম/সিসি।
প্রশ্নে স্পেসিফিক গ্রাভিটি (G) দেওয়া আছে কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য, এই সূত্রে এর কোনো প্রয়োজন নেই।

৮৬. নিচের কোনটি মৃত্তিকার ভেদ্যতা (Permeability) প্রভাবিত করে না?
ক) ভয়েড রেশিও (void ratio) খ) কণা আকারের বিতরণ (particle size distribution) গ) মৃত্তিকা কণার রঙ ঘ) পানির তাপমাত্রা

সঠিক উত্তর: গ) মৃত্তিকা কণার রঙ

ব্যাখ্যা:
মাটির মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার ক্ষমতা বা পার্মিবিলিটি অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। যেমন: কণার আকার (D10), ভয়েড রেশিও (e), ফ্লুইডের বৈশিষ্ট্য (সান্দ্রতা বা তাপমাত্রা) ইত্যাদি। অ্যালেন হ্যাজেনের সূত্র অনুযায়ী k ∝ D10²। কিন্তু মাটির ‘রঙ’ বা Color এর সাথে পানি প্রবাহের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।

৮৭. একটি কাদা (Clay) মৃত্তিকার তরল সীমা ৪২ এবং প্লাস্টিক সীমা ১৮ হলে প্লাস্টিসিটি সূচক (Plasticity Index, PI) কত হবে?
ক) ১৮ খ) ২৪ গ) ২৭ ঘ) ৪২

সঠিক উত্তর: খ) ২৪

ব্যাখ্যা:
প্লাস্টিসিটি ইনডেক্স (PI) হলো লিকুইড লিমিট (LL) এবং প্লাস্টিক লিমিট (PL) এর পার্থক্য।
সূত্র: PI = LL – PL
এখানে LL = ৪২ এবং PL = ১৮
সুতরাং PI = ৪২ – ১৮ = ২৪।
এটি মাটির নমনীয়তা বা প্লাস্টিক আচরণের পরিসীমা নির্দেশ করে। 

৮৮. একটি strip footing-এর জন্য নরম কাদায় (soft clay) বহনক্ষমতা সহগ Nc আনুমানিক কত ধরা হয়?
ক) ১.০ খ) ৫.৭ (বা ৫.১৪) গ) ৮.০ ঘ) ১০.০

সঠিক উত্তর: খ) ৫.৭ (বা ৫.১৪)

ব্যাখ্যা:
টারজাগির বিয়ারিং ক্যাপাসিটি তত্ত্ব অনুযায়ী, স্ট্রিপ ফুটিং-এর জন্য কোহেশন ফ্যাক্টর Nc এর মান নির্ভর করে ফ্রিকশন এঙ্গেলের ওপর। বিশুদ্ধ কাদা মাটি (Pure Clay, φ = 0) এর জন্য প্রান্ডল বা টারজাগির তত্ত্বে Nc = ৫.১৪ বা ৫.৭ (স্কেম্পটনের তত্ত্বে গভীরতার ওপর ভিত্তি করে বাড়ে)। অপশনে ৫.৭ একটি স্ট্যান্ডার্ড মান হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

৮৯. কোনো ঢাল তখন আশঙ্কাজনকভাবে অস্থিতিশীল (critically unstable) হয়, যখন নিরাপত্তা গুণক (factor of safety) এর মান হয়:
ক) ০.০ খ) < ১.০ গ) ১.০ ঘ) ১.৫

সঠিক উত্তর: গ) ১.০

ব্যাখ্যা:
ফ্যাক্টর অফ সেফটি (FS) হলো প্রতিরোধকারী বল এবং পতন ঘটানো বলের অনুপাত।

  • FS > ১ হলে ঢাল বা স্লোপ নিরাপদ (Stable)।
  • FS < ১ হলে ঢাল ব্যর্থ বা ধসে যাবে (Unstable)।
  • FS = ১ হলে ঢালটি ঠিক পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকে, অর্থাৎ এটি ‘Critically Unstable’ বা ক্রান্তীয় অবস্থায় আছে। সামান্য একটু বল বাড়লেই এটি ধসে পড়বে।

৯০. বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সাইট ইনভেস্টিগেশনে soil boring সাধারণত করা উচিত:
ক) শুধুমাত্র প্রস্তাবিত সাইটের কেন্দ্রস্থলে খ) সাইট জুড়ে নির্দিষ্ট ব্যবধানে নিয়মিতভাবে গ) শুধুমাত্র সাইটের প্রান্তভাগের কাছে ঘ) এলোমেলো নির্বাচনের ভিত্তিতে

সঠিক উত্তর: খ) সাইট জুড়ে নির্দিষ্ট ব্যবধানে নিয়মিতভাবে

ব্যাখ্যা:
সয়েল এক্সপ্লোরেশন বা বোরিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো পুরো সাইটের মাটির স্তরের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া। তাই বোর হোলগুলো একটি গ্রিড প্যাটার্নে বা সুষম ব্যবধানে (Uniform spacing) করা হয় যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাটির স্তর বা সমস্যা (যেমন পিট বা নরম মাটি) বাদ না পড়ে। এলোমেলো বা শুধু কেন্দ্রে করলে পুরো সাইটের সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না।

৯১. USCS অনুযায়ী, তরল সীমা ৫২ এবং প্লাস্টিসিটি সূচক ২৮ বিশিষ্ট মৃত্তিকা (soil) কোন গ্রুপে পড়বে?
ক) CL খ) CH গ) ML ঘ) MH

সঠিক উত্তর: খ) CH

ব্যাখ্যা:
ইউনিফাইড সয়েল ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম (USCS) অনুযায়ী:
১. লিকুইড লিমিট (LL) > ৫০% হলে সেটি উচ্চ নমনীয় বা High Plasticity (H)।
২. LL < ৫০% হলে সেটি নিম্ন নমনীয় বা Low Plasticity (L)।
প্রশ্নে LL = ৫২ (> ৫০), তাই এটি ‘H’ ক্যাটাগরির।
৩. মাটির ধরন বের করতে প্লাস্টিসিটি চার্ট বা ‘A-line’ ব্যবহার করতে হয়। A-line এর সমীকরণ: PI = 0.73(LL – 20)।
এখানে A-line PI = 0.73(52 – 20) = 0.73 × 32 = 23.36।
প্রশ্নে প্রদত্ত PI = ২৮। যেহেতু মাটির PI (২৮) > A-line PI (২৩.৩৬), তাই মাটিটি A-line এর উপরে অবস্থিত। A-line এর উপরে থাকলে সেটি কাদা বা Clay (C)।
সুতরাং, মাটিটি হলো CH (High Plasticity Clay)।
এটি একটি অত্যন্ত টেকনিক্যাল এবং স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন যা 

৯২. Standard Proctor টেস্টে মৃত্তিকা (soil) সাধারণত কয়টি স্তরে কম্প্যাকশন (Compaction) করা হয়?
ক) ২ খ) ৩ গ) ৫ ঘ) ৪

সঠিক উত্তর: খ) ৩

ব্যাখ্যা:
ল্যাবরেটরিতে মাটির ঘনত্ব বের করার জন্য প্রক্টর টেস্ট করা হয়।

  • স্ট্যান্ডার্ড প্রক্টর টেস্ট (Standard Proctor): এতে মাটি ৩টি লেয়ারে বা স্তরে কম্প্যাক্ট করা হয়।
  • মডিফাইড প্রক্টর টেস্ট (Modified Proctor): এতে মাটি ৫টি স্তরে কম্প্যাক্ট করা হয়।
    প্রশ্নে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বলা হয়েছে, তাই উত্তর হবে ৩টি স্তর। প্রতিটি স্তরে ২৫টি করে হ্যামার ব্লো বা আঘাত দেওয়া হয়।

৯৩. মৃত্তিকা (soil) স্তরে নিজস্ব ওজনের কারণে কোনো স্তরে যে উলম্ব চাপ সৃষ্টি হয় তাকে কী বলা হয়?
ক) Overburden চাপ খ) ছিদ্রস্থিত পানির চাপ (Pore water pressure) গ) কার্যকরী চাপ (Effective stress) ঘ) পার্শ্বীয় ভূচাপ (Lateral earth pressure)

সঠিক উত্তর: ক) Overburden চাপ (Overburden Pressure)

ব্যাখ্যা:
মাটির কোনো বিন্দুর ওপর জমে থাকা মাটির ওজনের কারণে যে উল্লম্ব চাপ (Vertical Stress) সৃষ্টি হয়, তাকে জিওস্ট্যাটিক স্ট্রেস বা ওভারবার্ডেন প্রেশার বলে। এর সূত্র σ = γz (একক ওজন × গভীরতা)। পোর ওয়াটার প্রেশার হলো পানির চাপ, আর ইফেক্টিভ স্ট্রেস হলো মাটির কণার পারস্পরিক চাপ।

৯৪. Unified Soil Classification System অনুযায়ী, প্রতীক ‘GW’ দ্বারা কী বোঝানো হয়?
ক) Gap-graded water খ) Gneissic water গ) Well-graded gravel ঘ) Well-graded glacial till

সঠিক উত্তর: গ) Well-graded gravel

ব্যাখ্যা:
USCS পদ্ধতিতে মাটির নামকরণের সংকেত:

  • G = Gravel (নুড়ি পাথর)
  • W = Well-graded (সুবিন্যস্ত)
  • P = Poorly-graded (অবিন্যস্ত)
    সুতরাং, ‘GW’ মানে হলো Well-graded Gravel বা সুবিন্যস্ত গ্রাভেল। যেখানে বিভিন্ন আকারের দানা বা কণা সুষমভাবে উপস্থিত থাকে।

৯৫. স্থির (steady) লোডের অধীনে সম্পৃক্ত মৃত্তিকা (soil) থেকে ছিদ্রস্থিত পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
ক) কম্প্যাকশন খ) কনসলিডেশন গ) কমপ্রেশন ঘ) লিকুইফ্যাকশন

সঠিক উত্তর: খ) কনসলিডেশন

ব্যাখ্যা:
মাটির আয়তন কমার দুটি প্রধান প্রক্রিয়া আছে:
১. কম্প্যাকশন (Compaction): এটি যান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে বাতাস বের করে দিয়ে মাটির ঘনত্ব বাড়ানোর তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া।
২. কনসলিডেশন (Consolidation): এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যেখানে ধীর বা স্থির লোডের কারণে মাটির রন্ধ্র থেকে পানি (Pore water) বেরিয়ে যায় এবং মাটির আয়তন কমে। সাধারণত কাদা মাটিতে এটি ঘটে। প্রশ্নে ‘ছিদ্রস্থিত পানি বের হয়ে যাওয়া’র কথা বলা হয়েছে, তাই এটি কনসলিডেশন।

৯৬. Proctor কম্প্যাকশন (Compaction) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ শুষ্ক ঘনত্ব পাওয়া যায় কোন অবস্থায়?
ক) শূন্য আর্দ্রতায় খ) optimum আর্দ্রতায় গ) সম্পৃক্ত আর্দ্রতায় ঘ) প্লাস্টিক সীমায়

সঠিক উত্তর: খ) optimum আর্দ্রতায় (OMC)

ব্যাখ্যা:
কম্প্যাকশন কার্ভ বা লেখচিত্র আঁকলে দেখা যায়, পানির পরিমাণ বাড়ালে প্রথমে ঘনত্ব বাড়তে থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। এরপর পানি বাড়ালে ঘনত্ব কমতে থাকে। যেই নির্দিষ্ট ময়েশ্চার কন্টেন্টে মাটির ‘সর্বোচ্চ শুষ্ক ঘনত্ব’ (Maximum Dry Density – MDD) অর্জিত হয়, তাকে অপটিমাম ময়েশ্চার কন্টেন্ট (Optimum Moisture Content – OMC) বলে।

৯৭. যদি কোনো মৃত্তিকা (soil) নমুনা optimum আর্দ্রতা (moisture content) এর চেয়ে বেশি আর্দ্রতায় কম্প্যাকশন (Compaction) করা হয়, তবে শুষ্ক ঘনত্বের কী হবে?
ক) বৃদ্ধি পাবে খ) হ্রাস পাবে গ) অপরিবর্তিত থাকবে ঘ) শূন্য হয়ে যাবে

সঠিক উত্তর: খ) হ্রাস পাবে

ব্যাখ্যা:
আগের প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, OMC-তে ঘনত্ব পিক বা সর্বোচ্চ হয়। OMC-র চেয়ে বেশি পানি দিলে (Wet side of optimum), অতিরিক্ত পানি মাটির কণাগুলোর জায়গা দখল করে নেয় কিন্তু কণাগুলোকে আর কাছাকাছি আনতে পারে না (কারণ পানি অসংনম্য)। ফলে মাটির কঠিন কণার পরিমাণ বা শুষ্ক ঘনত্ব কমে যায়।

৯৮. Mohr-Coulomb ব্যর্থতা মানদণ্ড (failure envelope) অনুযায়ী শিয়ার শক্তি (shear strength), τ = c + σtan φ। এখানে c কী বোঝায়?
ক) সংশক্তি প্রবণ বৈশিষ্ট্য খ) ঘর্ষণ কোণ গ) মোট চাপ এর একটি উপাদান ঘ) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক) সংশক্তি বা কোহেশন (Cohesion)

ব্যাখ্যা:
মোর-কুলম্বের শিয়ার স্ট্রেংথ সূত্রটি হলো: s = c + σ tanφ।
এখানে:

  • s বা τ = শিয়ার শক্তি
  • c = কোহেশন বা সংশক্তি (মাটির কণাগুলোর একে অপরকে ধরে রাখার নিজস্ব আঠালো বল)
  • σ = নরমাল স্ট্রেস
  • φ = ইন্টারনাল ফ্রিকশন অ্যাঙ্গেল
    তাই ‘c’ দ্বারা কোহেশন বোঝায়, যা সাধারণত কাদা মাটিতে থাকে। বালিতে c = ০ হয়।

৯৯. “সক্রিয় চাপ (Active pressure)” কার্যকর হয় যখন রিটেইনিং ওয়ালটি:
ক) ব্যাকফিলের দিক থেকে দূরে সরে যায় খ) ব্যাকফিলের দিকে সরে যায় গ) মোটেই সরে না ঘ) উলম্বভাবে উপরের দিকে সরে যায়

সঠিক উত্তর: ক) ব্যাকফিলের দিক থেকে দূরে সরে যায়

ব্যাখ্যা:
রিটেইনিং ওয়াল বা প্রতিরক্ষা দেয়ালের নড়াচড়ার ওপর ভিত্তি করে মাটির চাপ তিন প্রকার:
১. অ্যাক্টিভ প্রেসার (Active): ওয়ালটি মাটি থেকে বাইরের দিকে বা দূরে সরে যায়। মাটি ওয়ালকে ঠেলছে।
২. প্যাসিভ প্রেসার (Passive): ওয়ালটি মাটির দিকে বা ভেতরে সরে আসে। ওয়াল মাটিকে ঠেলছে।
৩. অ্যাট রেস্ট (At Rest): ওয়ালটি স্থির থাকে।
মনে রাখার কৌশল: Active = Away (দূরে)।

১০০. নরম কাদা (Clay) মৃত্তিকার “undisturbed” নমুনা সংগ্রহের জন্য সাধারণত কোন ধরনের স্যাম্পলার ব্যবহৃত হয়?
ক) বিভক্তচামচ (Split spoon) খ) পাতলা দেয়ালযুক্ত শেলবি টিউব (Shelby tube) গ) অগার (auger) ঘ) স্ক্র্যাপার

সঠিক উত্তর: খ) পাতলা দেয়ালযুক্ত শেলবি টিউব (Shelby tube)

ব্যাখ্যা:
সয়েল স্যাম্পলিং দুই প্রকার: ডিস্টার্বড এবং আনডিস্টার্বড।

  • ডিস্টার্বড স্যাম্পল (যেমন SPT টেস্টের স্যাম্পল) পাওয়া যায় স্প্লিট স্পুন স্যাম্পলার দিয়ে।
  • আনডিস্টার্বড বা অবিকৃত স্যাম্পল (ল্যাবে কনসলিডেশন বা শিয়ার টেস্টের জন্য) দরকার হলে মাটির গঠন নষ্ট করা যাবে না। নরম কাদা মাটির জন্য সবচেয়ে ভালো হলো ‘শেলবি টিউব স্যাম্পলার’। এটি একটি পাতলা দেয়ালের টিউব যা আলতো করে মাটিতে ঢুকিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। অগার দিয়ে গর্ত করা হয়, স্যাম্পল নেওয়া হয় না।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Related posts

error: Content is protected !!