বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নিয়োগ লিখিত প্রশ্ন সমাধান – ২০২৬

Bangladesh Wheat and Maize Research Institute Exam Question Solution 2026

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নিয়োগ লিখিত প্রশ্ন সমাধান – ২০২৬
Bangladesh Wheat and Maize Research Institute Office Assistant cum Computer Typist Recruitment Written Question Solution – 2026

০১। বাগধারাটির অর্থ নির্ণয় করুন:

ক) ঠোঁট কাটা
উত্তর: স্পষ্টভাষী
ব্যাখ্যা:
বাগধারা বাংলা ভাষার এক অমূল্য সম্পদ, যা অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশ করে। ‘ঠোঁট কাটা’ এমনই একটি বাগধারা, যার অর্থ হলো স্পষ্টভাষী বা যে ব্যক্তি কোনো রকম রাখঢাক না করে সরাসরি কথা বলে। যারা অপ্রিয় সত্য বলতেও দ্বিধা করে না, তাদের ক্ষেত্রেই এই বাগধারাটি প্রযোজ্য হয়। 

এই বাগধারাটির মূল ভাবটি হলো— ঠোঁট কাটা থাকলে যেমন মুখের কথাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তেমনই স্পষ্টভাষী ব্যক্তিরাও সত্য কথা বলা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: “সোহেল সাহেব একজন ঠোঁট কাটা লোক, তাই তার কথায় কেউ কিছু মনে করে না।”

ভবিষ্যতে মনে রাখার সহজ উপায় হলো, ‘কাটা’ শব্দটিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ হিসেবে কল্পনা করা। কাটা ঠোঁট দিয়ে যেমন কথা আটকানো যায় না, তেমনি স্পষ্টভাষী ব্যক্তিরাও অপ্রিয় সত্য বলতে ভয় পান না। 

খ) ইঁচড়ে পাকা
উত্তর: অকালপক্ব
ব্যাখ্যা:
‘ইঁচড়ে পাকা’ একটি বহুল প্রচলিত বাংলা বাগধারা, যার অর্থ হলো অকালপক্ব বা বয়সের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমান বা অভিজ্ঞ ভাব দেখানো। যে শিশু বা অল্পবয়সী ব্যক্তি বড়দের মতো আচরণ করে বা কথা বলে, তাকে ব্যঙ্গ করে ‘ইঁচড়ে পাকা’ বলা হয়। 

বাগধারাটির উৎস হলো ‘ইঁচড়’ বা কাঁচা কাঁঠাল। কাঁঠাল পাকার আগেই যদি পেকে যাওয়ার মতো ভাব দেখায়, তখন সেটি যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি অল্পবয়সী কেউ বয়সের অতিরিক্ত পাকা কথা বললে তাকে ‘ইঁচড়ে পাকা’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ: “গ্রামের ছেলেটি বয়সে ছোট হলেও কথায় কথায় এমন জ্ঞান দেয়, যেন এক্কেবারে ইঁচড়ে পাকা।”

এটি মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘ইঁচড়’ (কাঁচা ফল) এবং ‘পাকা’ (পরিণত) শব্দ দুটির বৈপরীত্যকে মাথায় রাখা। কাঁচা বয়সে পেকে যাওয়াই হলো অকালপক্বতা। 

গ) অর্ধচন্দ্র
উত্তর: গলা/ঘাড় ধাক্কা
ব্যাখ্যা:
‘অর্ধচন্দ্র’ বাগধারাটির অর্থ হলো গলা বা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া। এটি একটি অপমানজনক পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যখন কাউকে কোনো স্থান থেকে অসম্মানজনকভাবে বিতাড়িত করা হয়, তখন এই বাগধারাটি প্রয়োগ করা হয়। 

এই বাগধারাটির নামকরণের কারণ হলো, ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার সময় হাতের আঙুলগুলো অর্ধচন্দ্র বা অর্ধেক চাঁদের মতো আকৃতি ধারণ করে। এই দৃশ্যকল্প থেকেই ‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটি এসেছে। উদাহরণ: “অফিসের কাজে গাফিলতি করায় বস তাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দিলেন।” 

মনে রাখার কৌশল হিসেবে, ‘অর্ধচন্দ্র’ শব্দটি শোনার সাথে সাথেই ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার সময় হাতের অর্ধচন্দ্রাকৃতি ভঙ্গিমার কথা কল্পনা করুন। এই ছবিটি মাথায় গেঁথে গেলে বাগধারাটির অর্থ আর কখনো ভুল হবে না। 

ঘ) খোদার খাসি
উত্তর: হৃষ্টপুষ্ট ও ভাবনাহীন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা:
‘খোদার খাসি’ একটি চমৎকার ব্যঙ্গাত্মক বাগধারা। এর অর্থ হলো, এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন না, বেশ মোটাসোটা এবং নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করেন। এই ধরনের ব্যক্তিদের কোনো দায়িত্ববোধ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে না, তারা কেবল খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাতেই সন্তুষ্ট। 

বাগধারাটির উৎসগত ধারণা হলো, কোরবানির জন্য বা সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত খাসি বা ছাগলকে বেশ যত্ন করে খাওয়ানো হয় এবং মোটাতাজা করা হয়। সেই খাসির নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ভাবনা থাকে না। তার একমাত্র কাজ হলো খাওয়া আর হৃষ্টপুষ্ট হওয়া। মানুষের ক্ষেত্রে এই বাগধারাটি এমন ব্যক্তিদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। যেমন: “বাবার টাকায় চলে, নিজের কোনো চিন্তা নেই, ছেলেটা একটা খোদার খাসি হয়েছে।” 

মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘খাসি’র জীবনযাত্রার কথা ভাবা। একটি পালিত খাসি যেমন নিশ্চিন্তে খায়-দায় এবং মোটাসোটা হয়, তেমনি ভাবনাহীন মানুষেরাও হয়। এই তুলনামূলক চিত্রটি মনে রাখলে ‘খোদার খাসি’ বাগধারার অর্থ আর ভুল হবে না।

ঙ) কাঁচা পয়সা
উত্তর: নগদ উপার্জন
ব্যাখ্যা:
‘কাঁচা পয়সা’ বাগধারাটির অর্থ হলো নগদ উপার্জন বা হাতে হাতে আসা টাকা। যে অর্থ কোনো বিনিয়োগ বা দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই সরাসরি অর্জিত হয়, তাকেই ‘কাঁচা পয়সা’ বলা হয়। এটি সাধারণত সৎ বা অসৎ উভয় পথেই দ্রুত অর্জিত নগদ অর্থকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

এই বাগধারায় ‘কাঁচা’ শব্দটি ‘সদ্য’ বা ‘এখনই’ অর্জিত অর্থকে বোঝাচ্ছে, যা এখনো অন্য কোনো সম্পদে রূপান্তরিত হয়নি। যেমন— একজন দোকানদার দিনের শেষে যে নগদ টাকা আয় করেন, তা তার জন্য ‘কাঁচা পয়সা’। উদাহরণস্বরূপ: “লোকটা চাকরির পাশাপাশি টিউশনি করে কিছু কাঁচা পয়সা আয় করছে।” 

এটি মনে রাখার কৌশল হলো ‘কাঁচা’ শব্দটিকে ‘তরল’ বা ‘Liquid’ অর্থের সাথে মেলানো। যেমন Liquid Cash বা নগদ টাকা, যা সহজেই খরচ করা যায়। ‘কাঁচা পয়সা’ মানেও ঠিক তাই— সহজলভ্য নগদ অর্থ।

০২। সন্ধি বিচ্ছেদ করুন:

ক) উচ্চারণ
উত্তর: উৎ + চারণ
ব্যাখ্যা:
সন্ধি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা দুটি শব্দকে জুড়ে দিয়ে ভাষাকে শ্রুতিমধুর ও সংক্ষিপ্ত করে। ‘উচ্চারণ’ শব্দটি ব্যঞ্জন সন্ধির একটি চমৎকার উদাহরণ। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘উৎ + চারণ’। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির ‘ত-খণ্ডের নিয়ম’ অনুসরণ করে গঠিত হয়েছে। 

নিয়মটি হলো: ‘ৎ’ (ত-খণ্ড) এর পরে ‘চ’ বা ‘ছ’ থাকলে, ‘ৎ’ এর স্থলে ‘চ’ হয় এবং তা পরবর্তী ‘চ’ বা ‘ছ’ এর সাথে যুক্ত হয় (চ্ + চ = চ্চ)। এখানে, ‘উৎ’ এর ‘ৎ’ এর পরে ‘চারণ’ এর ‘চ’ আসায় ‘ৎ’ পরিবর্তিত হয়ে ‘চ’ হয়েছে এবং ‘চারণ’ এর ‘চ’ এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘চ্চ’ গঠন করেছে। ফলে শব্দটি হয়েছে ‘উচ্চারণ’। 

এই নিয়মটি মনে রাখার সহজ কৌশল হলো ‘ত/দ’ এর চ-বর্গীয় প্রেম। অর্থাৎ ‘ত/দ’ এর পরে চ-বর্গের (চ, ছ, জ, ঝ) কোনো বর্ণ এলে, ‘ত/দ’ পরিবর্তিত হয়ে সেই বর্গের প্রথম বর্ণ (অর্থাৎ চ বা জ) হয়ে যায়। যেমন: সৎ + জন = सज्जन, বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

খ) নিশ্চয়
উত্তর: নিঃ + চয়
ব্যাখ্যা:
‘নিশ্চয়’ শব্দটি বিসর্গ সন্ধির একটি আদর্শ উদাহরণ। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘নিঃ + চয়’। বিসর্গ (ঃ) এর সাথে স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। 

‘নিশ্চয়’ শব্দটি যে নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত হয়েছে তা হলো: বিসর্গের (ঃ) পরে ‘চ’ বা ‘ছ’ থাকলে, বিসর্গের স্থলে ‘শ’ (তালব্য শ) হয়। এখানে, ‘নিঃ’ এর বিসর্গের পরে ‘চয়’ শব্দের ‘চ’ এসেছে। ফলে, বিসর্গটি ‘শ’ তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং শব্দটি হয়েছে ‘নিশ্চয়’। একই নিয়মের আরও একটি উদাহরণ হলো ‘শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ’।

মনে রাখার সহজ উপায় হলো, বিসর্গকে একটি গিরগিটির সাথে তুলনা করা, যা পরবর্তী ব্যঞ্জনের ধরন দেখে নিজের রূপ পরিবর্তন করে। যখন সে ‘চ’ বা ‘ছ’ কে দেখে, তখন সে ‘শ’ হয়ে যায়। আবার ‘ট’ বা ‘ঠ’ কে দেখলে ‘ষ’ (মূর্ধন্য ষ) হয়ে যায়, যেমন— ‘ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার’।

গ) জগদীশ
উত্তর: জগৎ + ঈশ
ব্যাখ্যা:
‘জগদীশ’ শব্দটি ব্যঞ্জন সন্ধির একটি ক্লাসিক উদাহরণ। এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘জগৎ + ঈশ’। এখানে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণের মিলন ঘটেছে।

এই শব্দটি যে নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত হয়েছে, তা হলো: কোনো বর্গের প্রথম ব্যঞ্জন (যেমন ক, চ, ট, ত, প) এর পরে যদি কোনো স্বরবর্ণ থাকে, তবে সেই প্রথম ব্যঞ্জনটি তার নিজ বর্গের তৃতীয় ব্যঞ্জনে (গ, জ, ড, দ, ব) রূপান্তরিত হয়। এখানে, ‘জগৎ’ শব্দের শেষে ‘ত’ (ত-বর্গের প্রথম ব্যঞ্জন) রয়েছে এবং এরপর ‘ঈশ’ শব্দের শুরুতে স্বরবর্ণ ‘ঈ’ রয়েছে। ফলে, ‘ত’ তার নিজ বর্গের তৃতীয় ব্যঞ্জন ‘দ’ তে পরিণত হয়েছে। তাই, জগৎ + ঈশ = জগদ্ + ঈশ = জগদীশ (দ্ + ঈ = দী)।

এই নিয়মটি মনে রাখার জন্য একটি সহজ সূত্র হলো ‘১=৩’ সূত্র। অর্থাৎ, বর্গের ১ নম্বর বর্ণটি স্বরবর্ণের সাথে মিলিত হলে ৩ নম্বর বর্ণে পরিণত হবে। যেমন: বাক্ + দান = বাগদান (ক=গ), ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু (ট=ড)।

ঘ) গবেষণা
উত্তর: গো + এষণা
ব্যাখ্যা:
‘গবেষণা’ শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির একটি বিশেষ উদাহরণ। এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘গো + এষণা’। সাধারণত, স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী ‘ও’-কার এর পর অন্য কোনো স্বরবর্ণ থাকলে ‘ও’-কার এর স্থলে ‘অব’ হয়। যেমন: পো + অন = পবন। কিন্তু ‘গবেষণা’ শব্দটি এই সাধারণ নিয়ম মানে না, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ।

‘গবেষণা’ শব্দটির মূল অর্থ ছিল ‘গুরু বা গরু খোঁজা’ (গো + এষণা), কিন্তু বর্তমানে এটি ‘কোনো বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান বা পর্যালোচনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এটি সন্ধির সাধারণ নিয়ম মানে না, তাই একে মুখস্থ রাখতে হয়। নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো সেইসব সন্ধি, যা ব্যাকরণের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ না করেই তৈরি হয়েছে।

এই ধরনের ব্যতিক্রমী সন্ধি মনে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, এগুলোকে একটি আলাদা তালিকা তৈরি করে বারবার পড়া। ‘গবেষণা’, ‘গবাক্ষ’ (গো + অক্ষ), ‘প্রৌঢ়’ (প্র + ঊঢ়) ইত্যাদি কয়েকটি বিখ্যাত নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি, যা প্রায় সব পরীক্ষায় ঘুরেফিরে আসে।

ঙ) ষোড়শ
উত্তর: ষট্ + দশ
ব্যাখ্যা:
‘ষোড়শ’ একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ‘ষট্ + দশ’। এই সন্ধিটি সাধারণ ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মের কিছুটা ব্যতিক্রম, যা বিশেষভাবে মনে রাখতে হয়।

এখানে নিয়মটি হলো: ‘ট’ বা ‘ঠ’ এর পরে যদি ‘ড’ বা ‘ঢ’ থাকে, তবে ‘ট’/‘ঠ’ এর স্থলে ‘ড’ হয়। কিন্তু এখানে ‘ষট্’ এর ‘ট’ এর পরে ‘দশ’ এর ‘দ’ এসেছে। এটি একটি বিশেষ নিয়ম যেখানে ‘ট’ এর পরে ‘দ’ আসায় ‘ট’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ড’ এবং ‘দ’ পরিবর্তিত হয়ে ‘শ’ হয়েছে, এবং সব মিলিয়ে ‘ষোড়শ’ শব্দটি তৈরি হয়েছে। মূলত, ‘ট’ এর পরের ‘দশ’ এর ‘দ’ মূর্ধন্য ধ্বনি ‘ষ’ এর প্রভাবে ‘ড’-তে রূপান্তরিত হয় এবং ‘ষট্’-এর ‘ট’ লুপ্ত হয়, যা পরবর্তীতে ‘ষোড়শ’ রূপ লাভ করে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, তাই এর বিচ্ছেদ ‘ষট্ + দশ’ হিসেবেই স্বীকৃত।

এই বিশেষ নিয়মটি মনে রাখার জন্য ‘ষোড়শ’ শব্দটিকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা ভালো।

০৩। এক কথায় প্রকাশ করুন:

ক) যা পূর্বে ছিল এখন নেই
উত্তর: ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা:
‘এক কথায় প্রকাশ’ বা ‘বাক্য সংকোচন’ হলো বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দিয়ে একটি দীর্ঘ বাক্য বা পদগুচ্ছকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করা যায়। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল ও গতিশীল হয়। ‘যা পূর্বে ছিল এখন নেই’— এই বাক্যটির এক কথায় প্রকাশ হলো ‘ভূতপূর্ব’। 

‘ভূতপূর্ব’ শব্দটি দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত: ‘ভূত’ অর্থ অতীত এবং ‘পূর্ব’ অর্থ আগে। অর্থাৎ, যা অতীতে ছিল কিন্তু বর্তমানে তার অস্তিত্ব নেই। যেমন— কোনো প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে ‘ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি’ বলা হয়। উদাহরণ: “আমাদের ভূতপূর্ব প্রধান শিক্ষক আজ আমাদের মাঝে নেই।” 

এটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো ‘ভূত’ শব্দটির অর্থকে (অতীত) গুরুত্ব দেওয়া। যা কিছু ‘ভূত’ বা অতীত হয়ে গেছে, তা-ই ‘ভূতপূর্ব’। এই সংযোগটি মনে রাখলে পরীক্ষার হলে উত্তর দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। 

খ) চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত
উত্তর: চাক্ষুষ
ব্যাখ্যা:
‘চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত’— এই বাক্যটির অর্থ হলো এমন কিছু যা চোখের সামনেই ঘটেছে। এর এক কথায় প্রকাশ হলো ‘চাক্ষুষ’। এই শব্দটি প্রত্যক্ষ বা স্বচক্ষে দেখা কোনো ঘটনাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

‘চাক্ষুষ’ শব্দটি ‘চক্ষু’ (চোখ) থেকে উদ্ভূত। যা কিছু চক্ষু দ্বারা সরাসরি দেখা বা প্রত্যক্ষ করা হয়, তা-ই চাক্ষুষ। যেমন: “এটি একটি চাক্ষুষ প্রমাণ, এখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।” 

মনে রাখার কৌশল হলো ‘চাক্ষুষ’ শব্দটির সাথে ‘চক্ষু’ শব্দের মিল খুঁজে বের করা। ‘চক্ষু’ দিয়ে যা দেখা হয়, তা-ই ‘চাক্ষুষ’। এই সহজ সম্পর্কটি মাথায় রাখলে এই এক কথায় প্রকাশটি আর কখনো ভুল হবে না। 

গ) যে নারীর স্বামী ও পুত্র নেই
উত্তর: অবীরা
ব্যাখ্যা:
‘যে নারীর স্বামী ও পুত্র নেই’— এই অবস্থাকে এক কথায় ‘অবীরা’ বলা হয়। এটি বাংলা ভাষার একটি সুনির্দিষ্ট এবং গভীর অর্থবোধক শব্দ। প্রাচীন সমাজে একজন নারীর জন্য স্বামী ও পুত্র সন্তানকে বীরত্ব ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। তাই যার এই অবলম্বন নেই, তাকে ‘অবীরা’ বলা হতো। 

‘অবীরা’ শব্দটি ‘অ’ (নাই) এবং ‘বীর’ (স্বামী বা পুত্রের প্রতীক)— এই দুই অংশের সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ, যার বীর বা রক্ষাকর্তা নেই। এটি একজন নারীর নিঃসঙ্গ ও অসহায় অবস্থাকে নির্দেশ করে। বাংলা সাহিত্যে এই শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।

এই শব্দটি মনে রাখার জন্য ‘অ’ উপসর্গটির নেতিবাচক অর্থ (‘নেই’ বা ‘নাই’) এবং ‘বীর’ শব্দটির প্রতীকী অর্থ (স্বামী/পুত্র) মনে রাখতে হবে। ‘অ’ + ‘বীর’ = অবীরা (বীর নেই যার)। 

ঘ) যে শুনেই মনে রাখতে পারে
উত্তর: শ্রুতিধর
ব্যাখ্যা:
‘যে শুনেই মনে রাখতে পারে’— এই অসাধারণ ক্ষমতাকে এক কথায় ‘শ্রুতিধর’ বলা হয়। এটি এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায় যার শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি দুটোই অত্যন্ত প্রখর। একবার কোনো কিছু শুনলেই তা তার স্মৃতিতে গেঁথে যায়। 

‘শ্রুতিধর’ শব্দটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: ‘শ্রুতি’ অর্থ যা শোনা হয়েছে বা শ্রবণ, এবং ‘ধর’ অর্থ ধারণকারী। অর্থাৎ, যিনি শ্রুত বিষয়কে স্মৃতিতে ধারণ করতে পারেন। প্রাচীনকালে, যখন লিখন পদ্ধতি সহজলভ্য ছিল না, তখন গুরুদের কাছ থেকে শুনে শুনেই জ্ঞানার্জন করতে হতো। সেই সময়ে শ্রুতিধর ব্যক্তিদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যেমন: “স্বামী বিবেকানন্দ একজন মহান শ্রুতিধর ছিলেন।” 

মনে রাখার সহজ কৌশল হলো, শব্দটিকে ভেঙে পড়া: ‘শ্রুতি’ (শোনা) + ‘ধর’ (ধারণ করা)। যে শুনেই ধরে রাখতে পারে, সে-ই শ্রুতিধর। 

ঙ) অগভীর সতর্ক নিদ্রা
উত্তর: কাকনিদ্রা
ব্যাখ্যা:
‘অগভীর সতর্ক নিদ্রা’— এই অবস্থাকে এক কথায় ‘কাকনিদ্রা’ বলা হয়। এটি এমন এক ধরনের ঘুম, যা খুব হালকা এবং সামান্য শব্দেই ভেঙে যায়। এই ঘুমন্ত অবস্থাতেও ব্যক্তি পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকে। 

এই শব্দটির উৎস হলো কাকের ঘুম। কাক অত্যন্ত সতর্ক একটি পাখি। কথিত আছে, কাক যখন ঘুমায়, তখন তার একটি চোখ খোলা থাকে। অর্থাৎ, সে ঘুমের মধ্যেও চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে। তার ঘুম খুবই পাতলা ও সতর্ক। এই ধারণা থেকেই ‘কাকনিদ্রা’ শব্দটির উৎপত্তি। যেমন: “চোরের মতো তার কাকনিদ্রা, সামান্য শব্দেই জেগে ওঠে।” 

মনে রাখার কৌশল খুবই সহজ: কাকের সতর্ক স্বভাবের কথা ভাবুন। কাক যেমন সবসময় সতর্ক থাকে, তার ঘুমও তেমনই সতর্ক। এই ছবিটি মনে রাখলে ‘কাকনিদ্রা’র অর্থ আর কখনো ভুলবেন না।

ইংরেজি | অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

০৪। Translate into English:

ক) আমরা তাকে শুধু খাবারই দেই নি, আশ্রয়ও দিয়েছিলাম।
Answer: We gave him not only food but also shelter.
খ) সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।

Answer: Honesty is the best policy.

গ) লোকটা তিন দিন যাবৎ জ্বরে ভুগছে।
Answer: The man has been suffering from fever for three days.

ঘ) কুল কুল শব্দে নদী বয়ে যায়।
Answer: The river flows with a murmur.

ঙ) অহিংসা পরম ধর্ম।
Answer: Non-violence is a supreme virtue.

গণিত | অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

০৭। কোনো শ্রেণিতে ২০ জন ছাত্রের বয়সের গড় ১২ বছর। ৪ জন নতুন ছাত্র ভর্তি হওয়াতে বয়সের গড় ৪ মাস কমে গেল। নতুন ৪ জন ছাত্রের বয়সের গড় কত বছর?

উত্তর: ১০ বছর
ব্যাখ্যা:

প্রথম ধাপ: প্রথমে শ্রেণিতে ২০ জন ছাত্রের মোট বয়স বের করতে হবে।
২০ জন ছাত্রের গড় বয়স = ১২ বছর।
সুতরাং, ২০ জন ছাত্রের মোট বয়স = ২০ × ১২ = ২৪০ বছর।

দ্বিতীয় ধাপ: ৪ জন নতুন ছাত্র যোগ দেওয়ায় মোট ছাত্র সংখ্যা এবং তাদের বয়সের গড় ও মোট বয়স বের করতে হবে।
নতুন ছাত্র সংখ্যা = ৪ জন।
মোট ছাত্র সংখ্যা = ২০ + ৪ = ২৪ জন।
নতুন গড় বয়স: আগের গড় (১২ বছর) থেকে ৪ মাস কমে গেছে।
অর্থাৎ, নতুন গড় বয়স = ১২ বছর – ৪ মাস = ১১ বছর ৮ মাস।
এখন, ২৪ জন ছাত্রের মোট বয়স বের করতে হবে।
২৪ জনের মোট বয়স = ২৪ × (১১ বছর ৮ মাস)।
এখানে, ১১ বছর ৮ মাসকে বছরে রূপান্তর করলে হয় ১১ + (৮/১২) = ১১ + (২/৩) = ৩৫/৩ বছর।
সুতরাং, ২৪ জনের মোট বয়স = ২৪ × (৩৫/৩) = ৮ × ৩৫ = ২৮০ বছর।

তৃতীয় ধাপ: নতুন ৪ জন ছাত্রের মোট বয়স এবং তাদের গড় বয়স নির্ণয়।
নতুন ৪ জন ছাত্রের মোট বয়স = (২৪ জনের মোট বয়স) – (২০ জনের মোট বয়স)
= ২৮০ – ২৪০ = ৪০ বছর।
সুতরাং, নতুন ৪ জন ছাত্রের গড় বয়স = (তাদের মোট বয়স) / (ছাত্র সংখ্যা)
= ৪০ / ৪ = ১০ বছর।

০৮। একটি রম্বসের পরিসীমা 180 সে.মি. এবং ক্ষুদ্রতম কর্ণটি 54 সে.মি। রম্বসের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করুন।

উত্তর: ১৯৪৪ বর্গ সে.মি.
ব্যাখ্যা:
রম্বসের প্রধান ধর্মগুলো হলো: (১) এর চারটি বাহুই সমান, এবং (২) এর কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে।

প্রথম ধাপ: রম্বসের বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয়।
রম্বসের পরিসীমা = ১৮০ সে.মি.।
যেহেতু রম্বসের চারটি বাহু সমান, তাই এক বাহুর দৈর্ঘ্য = পরিসীমা / ৪
= ১৮০ / ৪ = ৪৫ সে.মি.।

দ্বিতীয় ধাপ: অপর কর্ণের দৈর্ঘ্য নির্ণয়।
আমাদের দেওয়া আছে ক্ষুদ্রতম কর্ণটির দৈর্ঘ্য = ৫৪ সে.মি.।
আমরা জানি, রম্বসের কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে। সুতরাং, ক্ষুদ্রতম কর্ণের অর্ধেকের দৈর্ঘ্য = ৫৪ / ২ = ২৭ সে.মি.।
এখন, রম্বসের কর্ণদ্বয় যেহেতু সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে, তারা ৪টি সমকোণী ত্রিভুজ তৈরি করে। প্রতিটি ত্রিভুজের অতিভুজ হলো রম্বসের বাহু, এবং অন্য দুই বাহু হলো কর্ণদ্বয়ের অর্ধেক।
পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী, (অতিভুজ)² = (লম্ব)² + (ভূমি)²
এখানে, অতিভুজ = রম্বসের বাহু = ৪৫ সে.মি.
ভূমি = ছোট কর্ণের অর্ধেক = ২৭ সে.মি.
লম্ব = বড় কর্ণের অর্ধেক
(বড় কর্ণের অর্ধেক)² = (৪৫)² – (২৭)²
= ২০২৫ – ৭২৯ = ১২৯৬
∴ বড় কর্ণের অর্ধেক = √১২৯৬ = ৩৬ সে.মি.।
সুতরাং, সম্পূর্ণ বড় কর্ণটির দৈর্ঘ্য = ৩৬ × ২ = ৭২ সে.মি.।

তৃতীয় ধাপ: রম্বসের ক্ষেত্রফল নির্ণয়।
রম্বসের ক্ষেত্রফলের সূত্র হলো = ½ × (কর্ণদ্বয়ের গুণফল)
= ½ × (৫৪ × ৭২)
= ½ × ৩৮৮৮
= ১৯৪৪ বর্গ সে.মি.।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Related posts

error: Content is protected !!